আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন Faruq Wasif’s Fraud: 2.4 Million Disappeared Through Fake Seminar and Journalists’ Forged Signatures ইত্তেহাদ নিউজ: আন্তর্জাতিক বাংলা অনলাইন সাংবাদিকতায় নির্ভরযোগ্য একটি সংবাদমাধ্যম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠ—কেন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইত্তেহাদ নিউজ বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা আলোচনায় ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য পিআইবিতে দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার ভুয়া বিল: স্বাক্ষর জাল, ভাউচার ভুয়া, সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.news): সততা, নিরপেক্ষতা ও সাহসী সাংবাদিকতার নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে গুগল স্কলার সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন: বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ স্বাধীন সাংবাদিকতায় জনপ্রিয় ইত্তেহাদ নিউজ ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতায় ‘ইত্তেহাদ নিউজ’ বানারীপাড়ায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং: উদ্যোক্তা মো. ইউনুসের সফল গল্প নতুন লুকে সুনেরাহ বরিশাল কর বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লা দুর্নীতির শীর্ষে ডিপিএইচইতে পাঁচ কোটিতে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল বরিশালে নির্বাচনী সফরে আসছেন তিন রাজনৈতিক দলের প্রধান ইসি ওয়েবসাইট তথ্য ফাঁস: সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড বিষয়ে সত্য কি?

বরিশাল হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সম্পদের পাহাড়

রিপোর্টারের নাম: বরিশাল খবর
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন:
📸 ফটো কার্ড জেনারেটর

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম একই কর্মস্থলে ১৫ বছর।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।

মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বরিশাল উপ-বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে ছিলেন।দু'হাতে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রাপ্তীর নীতিমালা লঙনের শত অভিযোগ থাকলেও ঘুসের বিনিময়ে বৈধতা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের অভ্যান্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় খেলার মাঠ দখলসহ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য।মাসিক মাসোয়ারা পান তিনি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে।

বরিশালে ১৫ বছর :


জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগে মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৫ বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।এছাড়া তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর।বরিশাল অঞ্চলে কর্মকালীন সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীন লোকজনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে হয়ে উঠেছেন ধন কুবের। বিষেশ করে পিরোজপুর হাউজিং ও সর্বশেষ নলছিটি হউজিং প্রকল্প থেকে তিনি কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করছেন। তার ভাই, বোন ও বোনের ভামাইয়ের নামে নিয়েছেন একাধিক প্লট যেখানে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। রুপাতলী হাউজিংয়ে প্লট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য তাকে ঘুস দিতে হয়।

তিনি ঘুসের বিনিময়ে নামজারী, বা স্থাপনার অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুস নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রফিকুল ইসলাম লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার জন্য নিজের ভাই এবং বোনের জামাই ও বোনের নামেই একাধিক প্লট নিয়ে স্থাপনা করেছেন। তার নামে বেনামে ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালী সদরে তার বাড়ি এবং বাউফলে শত শত একর জমি রয়েছে। বরিশালের রুপাতলী হাউজিংয়ে খেলার মাঠ দখল,হাউজিং এর মধ্যে দোকান উঠিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রফিকের সহযোগীতায় রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে।

 রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক:


সরকারের সকল নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে দেখিয়ে আইন বর্হিভূতভাবে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকান্ড-কে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম । সূত্রমতে, সরকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪৭০টি আবাসিক প্লট নিয়ে বিসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয় ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’। বরাদ্দ প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী কোন গ্রাহক তাদের নির্মিত স্থাপনায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দফতর কাজ করলেও তারা এখন ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’ এ বর্তমানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন, এনজিও, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ফার্নিচারের শো-রুম, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন হাউজ, ইলেকট্রিক শপ, হার্ডওয়ার, স্যানিটারি, খাবার হোটেল, স্টুডিও, কম্পিউটার শো-রুম, ফোন-ফ্যাক্স, মোবাইল শো-রুম, গার্মেন্টস শো-রুম, জুতার শো-রুম, ওয়াল্টন শো-রুম, অটোমোবাইল মেশিনারি শো-রুম, স্টেশনারি, মুদি দোকানসহ কয়েক শ’ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা।  আর এগুলো বরাদ্দ দিয়ে মালিকপক্ষ জামানত হিসেবে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত। আর এ সকল বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করছেন আবাসিক হিসেবে।  এছাড়া হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের দুই পার্শে¦ গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট টং ঘর। যা থেকে প্রতিদিন নিদিষ্ট হারে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিককে আবাসিক বিলে রূপান্তরিত করে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা করে উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বরত লাইন সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এ অবস্থিত একটি মার্কেটের মালিক বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে মার্কেট করেছি। আইন অনুযায়ী আপনি এখানে মার্কেট করতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয় পার্টি। আমার জন্য ওই আইন প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নিবার্হী প্রকৌশলী বলেন, রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক সংযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে আবাসিক মিটারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ ব্যবহার করছে সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, এখানে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি কোন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তার পরেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ও বিধি বিধান অমান্য করে একের পর এক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে হাউজিং এলাকায় ৪৫ একর জমিতে ৪৭১টি প্লট বরাদ্দকালে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জন্য ১২তলা মার্কেট নির্মাণের জন্য একপাশে জমি বরাদ্দ রেখে প্লান করা হয়।

মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের সাধারন প্লট মালিক ও ভুক্তভুগীরা।

এ ব্যাপারে সদ্য যোগদানকৃত উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান,আমি গত রোববার এখানে যোগদান করেছি তাই এসব বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ব্যাপারে মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,আমার ভাই, বোন ও বোন জামাইয়ের নামে প্লট আছে এটা সত্য তবে তারা স্বাভলম্ভী হলে এটা কি কোন দোষের।তিনি অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চায়ের আমন্ত্রন জানান।পরে কল ব্যাক করে এ প্রতিবেদকের নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী

বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল: 01713799669 / 01712596354

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি

© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত

Developed by : BDIX ROOT