বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ :
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদ্যোক্তা মো. ইউনুস পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার এই উদ্যোগ কেবল তারই নয়, এলাকার বেকার নারী ও পুরুষদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড, বন্দর বাজার সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে ইউনুস একটি ক্ষুদ্র রিসাইক্লিং কারখানা গড়ে তুলেছেন। পরিবারের সহযোগী হিসেবে তার মা মাকছুদা বেগম এবং ছোট ভাই খোকন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন।
কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে মাকছুদা বেগম বাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করে সংসার চালাতেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও ধৈর্য, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে আজকের উদ্যোগের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে ইউনুস তার প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছেন ‘মেসার্স মাকছুদা এন্টারপ্রাইজ’।
ইউনুস জানান, ২০১০ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করতেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের পর তিনি নিজস্ব রিসাইক্লিং মেশিন স্থাপন করে প্লাস্টিক চিপ উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে উৎপাদিত পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরাসরি কারখানায় দেখা গেছে, বস্তাবন্দি প্লাস্টিক বোতল, মেশিনঘরে স্তূপ করা ভাঙনযোগ্য প্লাস্টিক, এবং রিসাইক্লিং শেষে রোদে শুকানো প্লাস্টিক চিপ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
ইউনুস প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নতুন পণ্য তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি করে।”
তার ছোট ভাই খোকন যোগ করেন, “সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।”
স্থানীয়রা এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমরান আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং খাতে প্রতিষ্ঠান থাকলেও পুনর্ব্যবহারের হার এখনও আশানুরূপ নয়। বানারীপাড়ার মতো এলাকায় এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
পর্যটক ও শিক্ষক হাসান আহমেদ সোহাগ যোগ করেন, “রিসাইক্লিং বিশ্বস্ত পদ্ধতি হলেও বাংলাদেশে এটি সীমিত। ইউনুসের মতো উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন।”
বর্তমানে, সরকারী সহায়তা পেলে বানারীপাড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।