মামুনুর রশীদ নোমানী :
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব প্রকল্পে অনিয়ম, গাফিলতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, অর্থ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। কাজ সম্পন্ন হলেও বিল পেতে কিংবা জামানত ফেরত নিতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, ওয়ার্ক অর্ডার থেকে শুরু করে বিল ছাড় ও জামানত ফেরত—সব ক্ষেত্রেই শতকরা হারে টাকা দিতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুরে একাধিক আরসিসি গার্ডার ও আয়রন ব্রিজ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক কাজ দেড় বছরেও শুরু হয়নি। কোথাও আবার পুরোনো ব্রিজ ভেঙে ফেলে নতুন কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ায় যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
হাশেমের পুল নামে পরিচিত একটি কালভার্ট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রয়োজনীয় সংস্কার করলেই বহু বছর এটি ব্যবহার করা যেত।
২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানীতে রাজাপুর এলজিইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আব্দুল হাকিম হাওলাদার নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি অভিযোগ করেন, এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত একটি ব্রিজের কারণে তার বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বারবার লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক গণশুনানীতে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারকে ডাকা হলেও পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা (টিএ বিল) আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিল অনুমোদন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন টাকা পাননি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিলের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
ঝালকাঠি জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি ইলিয়াছ সিকদার ফরহাদ বলেন,
“উন্নয়ন কাজ মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য। কিন্তু কাজ ফেলে রাখা বা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।”
এ বিষয়ে রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তবে দুদকের গণশুনানীতে আমাকে ডাকা হয়েছিল, সেটি সত্য।”
উল্লেখ্য, অভিজিৎ মজুমদার ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজাপুর এলজিইডিতে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময় বদলির প্রক্রিয়া চললেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।