২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসাবে জায়গা
পেয়েছিলেন গাজী হাফিজুর রহমান লিকু। তখন থেকেই পালটাতে থাকে তার জীবনধারা।
নামে-বেনামে গড়তে থাকেন সম্পদের পাহাড়। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পদে
নিয়োগের পর যেন তার হাতে চলে আসে আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ। ১৬ বছর নানা
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে ৭টি বাহারি বহুতল
বাড়ি করেছেন। কুয়াকাটায় শেয়ারে গড়ে তুলেছেন ওশান ব্লু রিসোর্ট। গোপালগঞ্জে
স্ত্রীর নামে ৪০০ বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন রাফী অ্যাগ্রো অ্যান্ড
ফিশারিজ। পরিবহণ ব্যবসায় আছে বিপুল বিনিয়োগ। তবে সম্পদ গোপন করতে বেশির
ভাগের নিবন্ধনই করেছেন স্ত্রী, ভাই, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রীসহ
আত্মীয়স্বজনের নামে। বেনামেও আছে তার বিপুল সম্পদ। বুধবার তার
অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুদকের
উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা শাখার গোপন অনুসন্ধানে সাবেক
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর বিপুল সম্পদের
তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর কমিশন থেকে তার বিরুদ্ধ অনুসন্ধান টিম গঠনের
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট
অফিসার হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০৯-২০১০ করবর্ষে প্রথম আয়কর দেন লিকু। ওই
সময় তার মূল বেতন ছিল ৫ হাজার ১০০ টাকা। ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে জুন
পর্যন্ত তার একমাত্র আয়ের খাত বেতন-ভাতা থেকে নিট আয় ৩০ হাজার ৩৫২ টাকা
আয়কর ফাইলে প্রদর্শন করা হয়। ওই করবর্ষ শেষে তার অতীত জীবনের সঞ্চয় ৪ লাখ
৮০ হাজার টাকার বিপরীতে নিট সম্পদ ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৩ টাকা মর্মে আয়কর
রিটার্ন দাখিল করেন। সবশেষ ২০২৩-২০২৪ করবর্ষে তার মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০
টাকা এবং নিট আয় ৯ লাখ ৫ হাজার ৪৪৪ টাকা। এই করবর্ষ শেষে তার নিট সম্পদ ১
কোটি ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা মর্মে তিনি আয়কর রিটার্নে ঘোষণা দেন।
কিন্তু
দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে আয়কর নথিতে উল্লেখ করা সম্পদের বাইরে লিকুর
নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে
গোপালগঞ্জে মেসার্স রাফী অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠান
গড়ে তুলেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের নামে কাশিয়ানি থানা এলাকায় বিভিন্ন সময় একাধিক
দলিলমূলে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৫ বিঘা জমি কেনেন। বেনামে লিকুর
রয়েছে পরিবহণ ব্যবসা। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘ওয়েলকাম
এক্সপ্রেস’ নামে চলাচল করে তার ৪২টি বাস। গাড়িগুলো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কালু
ও তার যৌথ মালিকানায় বলে জানা গেছে। প্রতিটি গাড়ির দাম ৫০ লাখ টাকা। তবে
এখান থেকে সাতটি গাড়ি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগরে
চলাচলকারী ‘ওয়েলকাম পরিবহণ’ কোম্পানিতে রয়েছে লিকুর শেয়ার।
জানা
যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার কুশলা ইউনিয়নের গোড়ার গ্রাম ও সদর
উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের ৪০০ বিঘা জমিতে রয়েছে মৎস্য ঘের। সদর উপজেলার
থানাপাড়া রোডে পৈতৃক জমিতে অন্তত ২ কোটি টাকা খরচে নির্মাণ করেছেন ৫ তলা
বাড়ি। শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে থানাপাড়া রোডে
অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে তৈরি করেছেন ৬ তলা নজরকাড়া বাড়ি। ওই বাড়িতে
লিকুর শ্বশুর-শাশুড়ি থাকেন। গোপালগঞ্জ পৌরসভার নীলের মাঠসংলগ্ন ১৩ শতাংশ
জায়গায় ১০তলা কমার্শিয়াল কাম আবাসিক কমপ্লেক্স তৈরি করেছেন লিকু। শ্যালক
ইকরাম ও তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে গড়ে তোলা এই ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে
‘স্বর্ণা টাওয়ার’। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধায় মোড়ানো ভবনটিতে সুইমিংপুলসহ
৪০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০১৫ সালে এ জায়গা কিনে ছয়তলা ভবনের প্ল্যান পাশ করিয়ে
অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ তলা ভবন। এ জায়গার দলিল মূল্য ১৭ লাখ টাকা
দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে লিকুর
প্রভাবে ইকরাম গার্মেন্ট ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি কারবারে জড়িত। দুলাভাইয়ের
বিপুল অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে সহযোগিতা করেন শ্যালক ইকরাম। তিনি ভিয়েতনামে
বসবাস করেন। সেখানে বিপুল টাকা পাচার করেছেন লিকু। এপিএস পদ থেকে সরিয়ে
দেওয়ার পর পরিস্থিতি প্রতিকূল ভেবে সরকার পতনের আগেই ওমরাহ পালনের জন্য
সৌদি যান লিকু। সেখান থেকে ভিয়েতনাম গিয়ে শ্যালকের বাসায় আপাতত থিতু
হয়েছেন।
দুদকের গোপন অনুসন্ধানে লিকুর বেনামে আরও কয়েকটি বাড়ির তথ্য
পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে গোবরা নামক স্থানে লিকুর
শ্যালক ইকরাম, তার শ্যালক রিপন ফকিরের নামে ১৩ শতক জমি কিনে সেখানে নজরকাড়া
ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। একই এলাকায় ইকরামের আরেক শ্যালক মিল্টন
ফকিরের নামে কোনো প্ল্যান ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে তিনতলা বাড়ি। লিকুর ছোট ভাই
শফিকুর রহমান ছোটনের নামে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলায় ২২ শতাংশ জমি
কেনা হয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যালক ইকরামের নামে সাত কাঠা জায়গা কিনেছেন
সোয়া কোটি টাকায়। এছাড়া গোপালগঞ্জের বেতগ্রাম মৌজায় ৫৯৬/৭ ও ১০৮/৩ নম্বর
হোল্ডিংয়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের নামে ১৮ শতাংশ বসতভিটা কেনেন লিকু। পৌরসভার
১৩ নম্বর রোডে কমিশনার হুমায়ুনের কাছ থেকে শ্যালক ইকরামের নামে ১৫ বিঘা জমি
কিনে সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। ভায়রা ওমর আলীর নামে পৌরসভার ১১ নম্বর
ওয়ার্ডে চারতলা বাড়ি করেছেন।
আরও জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার
বছিলায় মধু সিটিতে এক বিঘা জমির ওপর ছয় তলা বাড়ি করেছেন লিকু। আদাবরে ছয়
নম্বর রোডে ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ নম্বর ফ্ল্যাট কিনেছেন স্ত্রী রহিমা বেগমের
নামে। ধানমন্ডির ২৫ মিতালী রোডে আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের ভবনে তার আরও একটি
অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট আছে। কুয়াকাটায় লাইট হাউজের পাশে ওশান ব্ল–
রিসোর্টের চেয়ারম্যান লিকুর ভাই মুস্তাফিজুর রহমান দিপু। এই রিসোর্টের জমির
মালিক ছিলেন মুমরেজ নামে এক ব্যক্তি। পরে তিনি বিভিন্ন জনের কাছে শেয়ার
বিক্রি করেন।
গাজী
হাফিজুর রহমান লিকু। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত
সচিব-২ ছিলেন। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকা, আরেক দিকে গোপালগঞ্জের
অধিবাসী হওয়ার গরম দুই গরম তাকে সীমাহীন বেপরোয়া করে তোলে। চলনে-বলনে ছিল
না কোনো মাধুর্য। বিনয় কী তিনি বুঝতেন না। চেয়ারেরও যে একটি ন্যূনতম
শুদ্ধতা আছে, সে কথাও তিনি বরাবর ভুলে থেকেছেন।
সরকার
পতনের আগপর্যন্ত তিনি কদাচিৎ অফিসে সময় দিয়েছেন। চাউর আছে, একাধিক উপ-অফিস
ছিল তার। সেসব অফিসে ‘ব্রিফকেস পার্টি’র ভিড় লেগেই থাকত। অনেক রাত পর্যন্ত
সেগুলোতে চলত রমরমা তদ্বির বাণিজ্য। তখনই অনেকে বলে বেড়িয়েছেন, সেসব
বাণিজ্যে লাখো-কোটি টাকার গন্ধ পাওয়া যেত বাতাসে। এমন করেই লিকু নামের এক
অখ্যাত মানুষ রাতারাতি হয়ে ওঠেন হাজার কোটি টাকার সম্রাট।
১৫ বছরের
পথচলায় ক্ষমতার জাদুর কাঠির স্পর্শে গড়ে ওঠে তার সম্পদের পাহাড়। স্ফীত
হয়েছে ব্যাংক ব্যালান্স। জুলাই বিপ্লবে সরকারের পাশাপাশি তার মসনদ ধসে পড়লে
তিনি হয়ে যান লাপাত্তা। গোপালগঞ্জের সব নেতা-কর্মীর মতো এখন তিনিও অধরা।
স্বাভাবিকভাবেই লিকু ও তার বউ-বাচ্চাদের সম্পদের খোঁজে নেমে দুর্নীতি দমন
কমিশনের (দুদক) চোখ কপালে ওঠে। খোঁজ মেলে স্ত্রী রহিমা আক্তার, শ্যালক শেখ
মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লাসহ নিকটাত্মীয়দের নামে অঢেল সম্পদের। অথচ তারা
কেউই সরকারি-বেসরকারি কোনো চাকরিতে তো ছিলেনই না, এমনকি কোনো
ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারে কাছেও থাকার কোনো প্রমাণ নেই।
জানা যায়, বেপরোয়া তদ্বির
বাণিজ্য ও ঘুষ-দুর্নীতি থেকে নিজেকে আড়াল করতে তিনি প্রায় সব সহায়সম্পদই
স্ত্রী-সন্তান, শ্যালক ও কাছের মানুষদের নামে গড়ে তুলেছেন। এটা তার একধরনের
ধূর্ততা আরকি!
এবার কমিশন লিকুর ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অর্থে
গড়া সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগে (বিএফআইইউ) ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে
দুদক লিকুর ব্যবসা-বাণিজ্যের খোঁজও পেয়েছে। তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের
নামে মেসার্স রাফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ, মৎস্য খামার, পৈতৃক জমিতে
পাঁচতলা ভবন, শ্যালক হালিম মোল্লার নামে ছয়তলা বাড়ি, ঢাকায় ফ্ল্যাট,
কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ওশান ব্লু রিসোর্ট এবং পরিবহন খাতে বিনিয়োগের
তথ্যও দুদকের হাতে পৌঁছেছে।
সম্পদের তথ্য
স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে মেসার্স রাফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজের জন্য
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার রামদিয়ায় কেনা হয়েছে ৪৭০ একর জমি।
কোটালীপাড়ার
কুশলী ইউনিয়নের গোড়াদা গ্রাম ও সদর থানার কাজুলিয়ায় রয়েছে ৪০০ বিঘা জমির
ওপর মাছের ঘের। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে ৪২টি লাক্সারি বাসে বিনিয়োগ
রয়েছে লিকুর। টুঙ্গিপাড়ার মো. কালুর সঙ্গে পার্টনারশিপে এই পরিবহন ব্যবসা।
হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতিটি বাসের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
অংশীদারে ব্যবসা রয়েছে ঢাকা-সাভার রুটে চলাচলকারী ওয়েলকাম পরিবহনেও।
গোপালগঞ্জ
সদরের থানাপাড়া সড়কে পৈতৃক ভিটায় তিনি প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে
বানিয়েছেন আলিশান পাঁচতলা বাড়ি। রাজধানীর বছিলায় মধু সিটিতে প্রায় এক বিঘা
জমিতে বানিয়েছেন ছয়তলা বাড়ি। আদাবরের ৬ নম্বর সড়কের ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৩
ফ্ল্যাটটি কিনেছেন স্ত্রীর নামে। এ ছাড়া ধানমন্ডি থানার রায়েরবাজারের ২৫
মিতালী রোডেও রয়েছে বেনামী ফ্ল্যাট। কুয়াকাটায় লাইট হাউজের পাশে কোটি টাকা
খরচ করে বানিয়েছেন ওশান ব্লু রিসোর্ট। এটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন তার
সেজ ভাই গাজী মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে মিলেছে আরও
কিছু বেনামী সম্পদের তথ্য। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের গোবরায় ডুপ্লেক্স বাড়ি,
একই জায়গায় একটি তিনতলা বাড়ি ও সোনাকুড়ে নীলের মাঠের পাশে ১০ শতাংশ জমিতে
একটি একতলা বাড়ি। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলায় খ্রিষ্টান কবরস্থানের
পাশে ছোট ভাই গাজী শফিকুর রহমানের নামে ৭ কাঠা জমি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের
সাবেক কমিশনার হুমায়ুনের কাছ থেকে শ্যালকের নামে কেনা ১৫ বিঘা জমির ওপর
দিঘি এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভায়রা ওমর আলীর নামে পাঁচতলা বাড়ি।
খোঁজ
নিয়ে জানা যায়, গোপালগঞ্জের থানাপাড়া সড়কে নিজ বাড়ির পাশে ছয়তলা বাড়ি
করেছেন লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লা। ওই বাড়ির নির্মাণ খরচের পুরোটাই যোগান
দিয়েছেন লিকু।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর
সড়কের সোনাকুড়ে নীলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর হালিম মোল্লা তার
স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে ১০ তলা কমার্শিয়াল কাম আবাসিক কমপ্লেক্স
‘স্বর্ণা টাওয়ার’ বানিয়েছেন। ভবনটিতে রয়েছে সুইমিংপুলসহ ৪০টি ফ্ল্যাট।
টাওয়ারের নির্মাণ খরচের পুরোটাই বহন করেছেন লিকু।
ঘনিষ্ঠ
একটি সূত্র দাবি করেছে, সহায়-সম্পদের বাইরে রয়েছে লিকুর নগদ কয়েক হাজার
কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ
বহু আগেই বিদেশে পাচার হয়েছে।
সূত্রমতে, বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় তার রয়েছে একাধিক বাড়ি, রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।