আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ স্বাধীন সাংবাদিকতায় জনপ্রিয় ইত্তেহাদ নিউজ ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতায় ‘ইত্তেহাদ নিউজ’ বানারীপাড়ায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং: উদ্যোক্তা মো. ইউনুসের সফল গল্প নতুন লুকে সুনেরাহ বরিশাল কর বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লা দুর্নীতির শীর্ষে ডিপিএইচইতে পাঁচ কোটিতে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল বরিশালে নির্বাচনী সফরে আসছেন তিন রাজনৈতিক দলের প্রধান ইসি ওয়েবসাইট তথ্য ফাঁস: সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড বিষয়ে সত্য কি? বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সেলিনা বেগম ফের আলোচনায় স্বল্প বেতনে শতকোটি সম্পদের মালিক! বরিশাল পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন ঝালকাঠি-২ আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজ্জাক সেলিম যে প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজাপুর এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের প্রকল্পে ভয়ংকর অনিয়মের অভিযোগ পরকীয়া থেকে প্রকল্প লুট: গণপূর্তের এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ মোশাররফ করিম ও রাজকে নিয়ে তমার নতুন অধ্যায় মায়ের শাড়িতে নজর কাড়লেন তাসনিয়া ফারিণ সৈকতে পরীমনির রোদেলা ভাইব বিয়ে করলেন রাফসান-জেফার দীর্ঘ বিরতির কারণ জানালেন অপু বিশ্বাস

খুলনা গণপূর্তে উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম: বরিশাল খবর
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন:
📸 ফটো কার্ড জেনারেটর

বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ খুলনা গণপূর্ত জোনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র—এমনই অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রকৌশলী (এস্টিমেটর) মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যবহার করে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায়, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সাধারণত তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু মো: মিজানুর রহমান ব্যতিক্রমীভাবে টানা সাত বছর ধরে খুলনা গণপূর্ত জোনেই বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ও বিশেষ সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি বারবার বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ এগোনো কার্যত অসম্ভব।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান, মিজানুর রহমানের কক্ষে সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের ঢুকতেই দেওয়া হয় না। দেখা করতে চাইলে দুর্ব্যবহার করা হয়, ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এমনকি অফিসের ভেতরেও তার কক্ষকে ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে দেখা হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার আচরণে চরম বিরক্ত ও ভীত বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বালাই নেই—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা সুবিধা পায়। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নানা অজুহাতে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা বড় অঙ্কের কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিল আটকে রাখা হয় কিংবা কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ হলেও কোনো যাচাই ছাড়াই পূর্ণ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের অবকাঠামো জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের মানের সঙ্গে অনুমোদিত বিলের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগিয়েছেন। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের কথাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ বারবার ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তাহলে এতদিন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে—খুলনা গণপূর্তের এই দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র ভেঙে দিতে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে মো: মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এখন প্রশ্ন একটাই—খুলনা গণপূর্তের এই নীরব দুর্নীতির দেয়াল কি আরও কিছুদিন অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়ে টিকে থাকবে, নাকি সত্যিই এবার শুরু হবে জবাবদিহির কঠোর অধ্যায়?


কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী

বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল: 01713799669 / 01712596354

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি

© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত

Developed by : BDIX ROOT