বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ :
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ। কুয়াশার চাদর আর হিমেল বাতাসের দাপটে ঠাকুরগাঁওয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তুরে হাওয়ার ঝাপটায় থমকে গিয়েছিল জনপদ। আজ রোববার ঘড়ির কাঁটা দশটা পেরোনোর পর সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমেনি একরত্তি। একদিকে কনকনে ঠান্ডা, অন্যদিকে ফসলের মড়ক— দুই সাঁড়াশি চাপে এখন নাভিশ্বাস উঠার জোগাড় প্রান্তিক মানুষের।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, ভোররাতে পারদ আরও তলানিতে ঠেকেছিল। দিনভর সূর্যের সঙ্গে কুয়াশার লুকোচুরি চললেও হিমেল হাওয়ার দাপটে কাবু আপামর জেলাবাসী।
মথুরাপুর পাবলিক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এই কামড়ানো শীতে এক চিলতে রোদ যেন স্বর্গসুখের মতো। তবে সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না বিকালের পরেই নামা হাড়হিম ঠান্ডার দাপটে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি অর্থনীতি। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের জোড়া ফলায় মাঠের পর মাঠ সবজি এখন ধ্বংসের মুখে।
সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল একরাশ হতাশা। তিনি জানালেন, কুয়াশার জেরে বেগুন খেতে মড়ক লেগেছে। ফলন নেই বললেই চলে, বাধ্য হয়ে অনেক চাষি গাছ উপড়ে ফেলছেন।
রেহাই পায়নি আলুও। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রের খবর, বহু জমিতেই থাবা বসিয়েছে মারণ ‘লেট ব্লাইট’ রোগ। সবজি বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুসের আশঙ্কা, জোগানে টান পড়ায় বাজারে খুব শীঘ্রই আকাশছোঁয়া হতে পারে বেগুন ও শিমের দাম।
ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চরাচর। সকাল সাড়ে দশটার পর কুয়াশা সরিয়ে সূর্যের তেজ কিছুটা বাড়লে জনজীবনে চাঞ্চল্য ফিরছে ঠিকই, কিন্তু হিমেল হাওয়ার দাপট বজায় থাকছে সারাদিন। সব মিলিয়ে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে ফসলের লোকসান— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আর্তনাদ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।