
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দরপত্রে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, বিল ও নিরাপত্তা জামানত আটকে রাখা এবং সরকারি উন্নয়নকাজ নিয়ন্ত্রণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে যোগসাজশে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রায় ২৬ কোটি টাকার দুটি কাজ ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, পছন্দের উন্নয়নকাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং পরে অন্য ঠিকাদারদের কাছে কাজ হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কাজের বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
দপ্তরটির কার্যক্রম ঘিরে ২৪ জন ঠিকাদার সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের প্রতিকার, নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কাজ শেষ হওয়ার পরও বিল আটকে রাখা এবং নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতে হয়রানি। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ নিয়ে পরে সাবকন্ট্রাক্টে অন্যদের কাজ দেওয়া হয়। এতে মূল কাজের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক লেনদেনে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব বজায় থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা, প্রকৃত আর্থিক সম্পর্ক এবং কথিত কমিশন লেনদেনের বিষয়গুলো নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কে এই শহিদুল,আটকের দাবি
শহিদুল ইসলাম ছাত্র জিবন থেকেই ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী।পিমস আইডি নং ০০০৫৪৩।এন আই ডি নং- এনআইডি নং- ২৬৯০৪১৭১৫৪+++। ডুয়েটে থাকাকালীন সময়ে আবেদ আলী পিএসসি সনদ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।
বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একটি শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে প্রকৌশলী শহিদুল জড়িয়ে পড়েন। শহিদুলের নিয়োগেও রয়েছে বড় অনিয়ম।তিনি ও তার বন্ধুদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়েছিল।বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে সেই অনিয়ম ধামাচাপা দেয়া হয়।শহিদুলকে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়ে আবেদআলী পিএসসি প্রশ্নফাঁসে বহু তথ্য বেড়িয়ে আসবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যখন ঠিকাদার :
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি নিজ দপ্তরে বসেই চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন।এই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে সাব কন্ট্যাক্টে কাজ দেন বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।ফলে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের নিকট জিম্মি থাকে সাব কন্টাক্টে কাজ নেয়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন।শহিদুল ইসলাম যে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন সেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার,দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টার প্রাইজ,চট্রগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স,খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে কাজ দেওয়া হয়। এতে মূল কাজের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব বজায় থাকে বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁদের আরও দাবি, সাবকন্ট্রাক্টে কাজ নেওয়া ঠিকাদারদের বিল, জামানত ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে অনিয়মের প্রতিবাদ করা বা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাদের আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বরাদ্দ ও সাবকন্ট্রাক্টের বৈধতা যাচাই করতে দরপত্রের নথি, চুক্তিপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি সরকারি দ্বায়িত্বে নিয়োজিতই নন।তিনি এখনো বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্যও। ডুয়েটে ছাত্র জিবনে কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন।২০০৯ ব্যাচের এই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের চতুরতায় বরিশাল,ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর অসংখ্য ঠিকাদারগন পথে বসেছে।
শহিদুলের গডফাদার ঝালকাঠিতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ছিলেন আমির হোসেন আমু,বরিশালে তার গডফাদার ছিলেন জাহিদ ফারুক শামিম। আমু ও জাহিদ ফারুক শামিম কারাগারে অথচ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বরিশাল ও বরগুনার দ্বায়িত্বে বহাল তবিয়তে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।শহিদুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সাধারন ঠিকাদারগন।
ঠিকাদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্পের ফাইল কার্যত এগোয় না-এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দপ্তরের ভেতরে এমন একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কেউ তাঁর বিরাগভাজন হলে কিংবা তাঁর কথিত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ফাইল আটকে যাওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল শেয়ারি বরিশাল ও ঢাকায় জমি ক্রয় করে ফ্ল্যাট ব্যবসা,উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট,গাড়িসহ নামে বেনামে শত শত কোটি টাকাসহ সহায় সম্পদ গড়েছেন। ঘুষ,ঠিকাদারি,ঠিকাদারদের থেকে প্রতি বিলে ঘুষ,কমিশন,ঠিকাদারী কাজ বিক্রি, পার্টনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজের রিভাইজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ,প্রতি লাইসেন্স থেকে দশ হাজার করে ঘুষ আদায়সহ অনৈতিক ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে তার সম্পদের পাহাড়ের সকল তথ্য।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল নারীদের প্রতি খুবই দুর্বল।তাকে নারী সাপ্লাই দিত সাবেক এক হিসাব রক্ষক।বর্তমানে এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যান্তরে কানাঘুষা চলছে।এছাড়া তার নিজস্ব নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিও তাকে সুন্দরী নারী সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একটি নির্জন বাংলোতে নারীদের নিয়ে সময় কাটানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর বিল ছাড় করাতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে হয়-এমন অভিযোগ বহু ঠিকাদারের। প্রকল্পের আকার ও বাজেট অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে বলে তারা জানান। কাজ যত বড়, কথিত লেনদেনের অঙ্কও তত বেশি-এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় বলে তারা দাবি করেন। প্রথমে মৌখিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পরে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, সবশেষে সরাসরি 'খরচের কথা' বলা হয়।
এদিকে, কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকা, ভবনে ফাটল এবং ছাদ থেকে পানি পড়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের নথি, নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষার ফল এবং প্রকৌশলগত পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই জরুরি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বিল আটকে রাখা কিংবা হয়রানির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। অভিযোগকারীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনের উপাদানে উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীও দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, নিরাপত্তা জামানতের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী
বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল
ইমেইল: nomanibsl@gmail.com
মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি
© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত