আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজাপুর এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের প্রকল্পে ভয়ংকর অনিয়মের অভিযোগ পরকীয়া থেকে প্রকল্প লুট: গণপূর্তের এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ মোশাররফ করিম ও রাজকে নিয়ে তমার নতুন অধ্যায় মায়ের শাড়িতে নজর কাড়লেন তাসনিয়া ফারিণ সৈকতে পরীমনির রোদেলা ভাইব বিয়ে করলেন রাফসান-জেফার দীর্ঘ বিরতির কারণ জানালেন অপু বিশ্বাস গণপূর্ত অধিদপ্তর:একই সময়ে দুই দপ্তর থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ খুলনা গণপূর্তে উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামকে ঘিরে তোলপাড় অভিযোগের পাহাড় পেরিয়ে বালিশকান্ডের হোতা আশরাফুল ইসলামকে পদোন্নতি এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরে বাংলাদেশের ‘ক্ষুদ্রঋণ মডেল’ অনুসরণে আগ্রহী মালদ্বীপ গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণে পিরোজপুরে শিক্ষক সমাবেশ বরিশালের ৬আসনে ৭ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার বরিশালে পিআইবির প্রশিক্ষন নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে অসন্তোষ দুর্নীতির বরপুত্র সেটেলমেন্ট অফিসের নাজির তৌহিদুর রশিদ বহাল তবিয়তে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়াল বরিশাল বোর্ড

গণপূর্ত অধিদপ্তরে

রিপোর্টারের নাম: বরিশাল খবর
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন:
📸 ফটো কার্ড জেনারেটর

বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে। অবৈধ নিয়োগ, বিধিবহির্ভূত পদোন্নতি, আদালতের আদেশ প্রকাশ্যে অমান্য এবং একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সংশ্লিষ্ট নথি ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বছরের পর বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির নেটওয়ার্ক প্রশাসনের ভেতরেই সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালতের স্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে সরাসরি উচ্চতর পদে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সরাসরি নিয়োগ ‘ব্লক পোস্ট’ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে পরবর্তী পদোন্নতির সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে পঞ্চম গ্রেডে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণভাবে বিধিবহির্ভূত বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি একই সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়মিত বেতন গ্রহণ করেছেন এবং একই সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদেও এককালীন বেতন উত্তোলন করেছেন। বেতন উত্তোলনের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একই সময়ে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন গ্রহণ গুরুতর অপরাধ হলেও জাহাঙ্গীর আলম আজও নির্বিঘ্নে চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা বদরুল আলম খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে দরপত্র বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বদরুল আলম খানের ডানহাত হিসেবে পরিচিত থাকায় বিভাগের ভেতরে তার প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিভাগের বহু কর্মকর্তা তার ভয়ে নীরব থাকতে বাধ্য হন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এ অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতির পেছনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া এবং রফিকুল ইসলামের। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পরিবারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও এসব নিয়োগে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছিল। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রকৌশলী শুধু রাজনৈতিক ক্যাডার হিসেবেই পরিচিত নন, বরং জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় অর্থদাতা হিসেবে নাম থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এদিকে আদালতের নির্দেশে ১৭ জন বিসিএস কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণের আদেশ থাকলেও গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তা আজও কার্যকর করেনি। বরং অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দিয়ে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর ভুক্তভোগী বিসিএস কর্মকর্তারা গ্রেডেশন পুনর্নির্ধারণের আবেদন জানালেও তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আদালতের আদেশের প্রকাশ্য অবমাননা এবং স্বৈরাচারী দোসরদের অবৈধ সুবিধা টিকিয়ে রাখার কৌশল।

প্রশাসনের ভেতরেও এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ধরনের পদোন্নতি কোনোভাবেই বিধিসম্মত হতে পারে না এবং এর পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান এবং একই সময়ে দুই দপ্তর থেকে বেতন উত্তোলন সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাতের শামিল। তার মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে অবৈধভাবে উত্তোলিত অর্থ উদ্ধার করা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—আদালতের আদেশ, সরকারি চাকরি বিধি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন ভয়াবহ অনিয়ম চলতে পারে? কোন ‘অদৃশ্য শক্তি’র ছত্রছায়ায় আজও বহাল রয়েছে এই দুর্নীতির নেটওয়ার্ক? জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী

বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল: 01713799669 / 01712596354

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি

© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত

Developed by : BDIX ROOT