জাতীয়

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত দক্ষিণাঞ্চলের ২৪ লাখ ঘর

  প্রতিনিধি ২৩ নভেম্বর ২০২২ , ৬:২৭:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টার :
“ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়া হবে” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাভূক্ত ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেছে।
এরমাধ্যমে একসময়ের অবহেলিত দখিণের জনপদে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নিকট অতীতে সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়ে পড়া গ্রামাঞ্চল এখন গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পদচারনায় মুখর থাকছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে নানামুখী কুটির শিল্প গড়ে উঠতে শুরু করেছে গ্রামের পল্লী এলাকায়। এতে করে ঘুরতে শুরু করেছে অর্থনীতির চাকা। কৃষির পাশাপাশি নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গ্রামাঞ্চলে বেকার সমস্যাও অনেকাংশে লাগব করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৪ হাজার ৭৭২টি গ্রামের শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবি। এমনকি নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে নদীর তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
সূত্রে আরও জানা গেছে, মূল সাব-স্টেশন থেকে ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও .০৪ কেভি লাইনের মাধ্যমে সুদূর পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার পরেও দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গড় সিষ্টেম লস ১০% এর নিচে।
ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, কুয়েত উন্নয়ন তহবিল, জাপান উন্নয়ন সংস্থা ও মার্কিন সাহায্য সংস্থাসহ কয়েকটি দাতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় এখন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।
সূত্রমতে, দক্ষিণাঞ্চলে ১৯৮২ সালের ৮ মে সর্বপ্রথম পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার পরিচালন কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে ক্রমান্বয়ে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এবং পটুয়াখালী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ভোলা ও ঝালকাঠী জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ইতোমধ্যে ৩৩ কেভি, ১১ কেভি এবং এলটিসহ ৫৭ হাজার কিলোমিটার লাইনের সাহায্যে প্রায় ৩৮৫টি ইউনিয়নের ৫ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহ করছে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। এ অঞ্চলের প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকের জন্য ৯৫৭ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন ৭০ টি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে পিক আওয়ারে গ্রাহকদের কাছে ৪৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো।
তবে সেচ, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকের অভাবে আবাসিক গ্রাহক নির্ভর দক্ষিণাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো মুনাফা অর্জন করতে না পরায় আর্থিক ভীত অনেকটা নড়বড়ে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে দেশের মুনাফা অর্জনকারী সমিতিগুলোর কাছ থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অর্থিক ভর্তুকিতে এসব লোকাসানী সমিতিগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এমনকি এ অঞ্চলের ২৪ লাখ গ্রাহকের ২১ লাখ ২০ হাজারই আবাসিক। এসব আবাসিক গ্রাহককে সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে অনেকটা পাইকারী ক্রয় মূল্যেই। ফলে মুনাফা দূরের কথা অব্যাহত লোকসানেই সমিতিগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা ধরে রাখতে হচ্ছে। সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে সেচ গ্রাহকের সংখ্যা দেড় হাজারেরও কম। শিল্প গ্রাহকের সংখ্যাও হাতে গোনা। বাণিজ্যিকসহ অন্যান্য গ্রাহকের সংখ্যা দুই লাখের কিছু বেশী। ফলে এসব সমিতি যুগের পর যুগ লাভের মুখ দেখছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দক্ষিণাঞ্চলে আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি কৃষি-সেচ ব্যবস্থা বিদ্যুতায়নে গুরুত্বারোপ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিবীদরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণে অব্যাহত লোকাসানের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিজস্ব তহবিলে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ক্ষমতা বর্ধনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ১ হাজার ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকার এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হবে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

Verified by MonsterInsights