অর্থ ও বানিজ্য

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে হবে: স্পিকার

  প্রতিনিধি ২৩ নভেম্বর ২০২২ , ১১:০৭:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নীতি সহায়তার পাশাপাশি ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা হয়েছে। এটি আরও সহজীকরণ করার প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তের (সুদবিহীন) ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই এসব তথ্য জানেন না। ফলে এ তহবিলের অর্থ খুব বেশি ব্যয়ও হয় না। এজন্য সবার মাঝে তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে। 

তিনি বলেন, নারী উন্নয়নে এখনো পাঁচ ধরনের প্রধান বাধা আছে। এগুলো হলো- প্রশিক্ষণ, উন্নত শিক্ষা, সম্পদ প্রাপ্তি, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে এ দেশের নারী উদ্যোক্তারা আরও অনেক বেশি এগিয়ে যেতে পারবেন।

বুধবার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন এন্টারপ্রেনারস সামিট-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিরীন শারমিন এসব কথা বলেন। 

দুই দিনব্যাপী যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিল (বিআইবিসি) এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)। প্রথম দিনে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার বলেন, এ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের এখনো অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু সেগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে এরকম একটি প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ দেশের নারী উদ্যোক্তারা দারিদ্র্য নিরসন, বৈষম্য হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। একটি অন্যতম বিষয় হলো নারী উদ্যোক্তারা কখনো ঋণ খেলাপি হন না। তাহলে তাদের জন্য সহজেই ঋণপ্রান্তি নিশ্চিত করতে আরও বেশি জোর দেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন ঋণের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। এটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং হস্তান্তরের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। 

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারাও। তারা শত বাধা পেরিয়ে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং নারী উদ্যোক্তারা অনেক বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ধীরে ধীরে তারা সেটি কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনে দিকে। নতুন নতুন ব্যবসার পথ তৈরি করছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বেশি পাওয়া। 

বিআইবিসির প্রেসিডেন্ট মানতাসা আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং উইমেন’স ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডব্লিউআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ড. হারবিন অরোরা রায়। 

বক্তব্য দেন- বিডার নির্বাহী সদস্য মহসিনা ইয়াসমীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান। 

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দেশের পোশাক খাত নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। এরপরই রয়েছে এসএমই খাতের ভূমিকা। গ্রামীণ উন্নয়নে এসএমই খাতের ভূমিকা অনেক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের নারী উদ্যোক্তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সরকার নানা সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যৎ উত্তরণে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বেশি ভূমিকা রাখবে। এরকম সামিটের আয়োজন বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। 

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সামাজিক পরিবর্তনে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন এ দেশের নারীরা। পোশাক খাত দেশের নারীদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নারীদের ক্ষমতায়ন করেছে। পাশাপাশি পরিবারে নারীদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সামাজিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অন্যতম। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা গ্রহণের সময় মায়ের মতো ভূমিকা পালন করে থাকেন। এতে দেশ আরও এগিয়ে যাচ্ছে। আজ সেনাবাহিনী, পুলিশ, মন্ত্রিপরিষদ, জাতীয় সংসদসহ সব জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- মানসিকতার পরিবর্তন। এ ছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উচ্চতর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এখন থেকে এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে খুব ভালো ভূমিকা রাখছে। তেমনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন পরিবারে নারীদের প্রধান ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। প্রাকৃতিক এবং সামাজিকভাবেই পরিবারে নারীরা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে পেছন থেকে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন বঙ্গমাতা। ঐতিহাসিকভাবেই নারীরা সব সময় পুরুষদের এগিয়ে যেতে সহায়ক ছিলেন। অর্থনীতি, উন্নয়ন ও দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন নারীরা। আমার জীবনে আমার মায়ের ভূমিকা ছিল প্রধান। স্ত্রীর সহায়তা পাচ্ছি সব সময়। এ ছাড়া আমার আইডল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। 

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও নারী। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। দেশের পোশাক খাত এগিয়ে নিতে নারীদের ব্যাপক অবদান আছে। এখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিরাজমান। প্রায় সব দেশই এ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলছে। উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে উদ্যোক্তাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারেন না। 

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এ দেশের নারী উদ্যোক্তারা অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ই-কমার্স বাণিজ্য তাদের অংশগ্রহণ ব্যাপক। এলডিসি উত্তরণের পর ২০৪১ সালে উন্নত দেশে যেতে নারী উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসএমই নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। এ তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে কাজ করা হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাসহ সব বিনিয়োগকারীদের জন্য বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার কাজ করছে। নারীদের জন্য ব্যাংক ঋণ সহজ করা হয়েছে। এসব সুবিধা গ্রহণ করে নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যেতে পারেন। 

ডব্লিউআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট হারবিন অরোরা রায় বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা শুধু বাংলাদেশ-ভারত বলি না। আমরা বলি বাংলাদেশ ও ভারতের নারী, বাংলাদেশ ও ভারতের যুব সমাজ। আমরা নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে যৌথভাবে কাজ করছি। আমি গর্ব করি বাংলাদেশে নারীদের নেতৃত্বে মানতাসার মতো নারী রয়েছেন। সার্ক বিজনেস কাউন্সিলের নেতৃত্বে আসছেন মানতাসা। এটা গর্বের বিষয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি, এনজিও, এসএমই এবং জনগণ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমরা নারী উদ্যোক্তাদের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। 

বিআইবিসির প্রেসিডেন্ট মানতাসা আহমেদ বলেন, নারীদের শক্তিশালী করতে কাজ করবে এ সামিট। অনেক নারী উদ্যোক্তাই এখানে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা জায়গা স্বল্পতার কারণে তাদের সুযোগ দিতে পারিনি। এ দেশের নারী উদ্যোক্তারা নানা সমস্যার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছেন। 

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

Verified by MonsterInsights