অর্থ ও বানিজ্য

১৫-২০ টি লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চরম ঝুঁকির মুখে

  প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ১০:৫৩:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

পলিসিগত সহায়তার অভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্পখাতের উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন। বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে এসএমইখাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তবে সহায়ত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এখাতের দ্রুত উন্নয়ন ও বিকাশ সম্ভব বলে মনে করছে জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশ (নাসিব)। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেল সারাদেশের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশ (নাসিব)। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন, বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান বেলাল, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ, সাবেক পরিচালক মাহবুব ইসলাম রুনুসহ সারাদেশ থেকে আগত বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়- তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই পণ্যটি বর্জন এবং নিরৎসাহিত করতে একটি সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন। কিন্তু ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) অধিকতর সংশোধনীর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত খসড়াটি এমনভাবে করা হচ্ছে যেটি বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে মুদিপণ্যের দোকান, ভাসমান হকারসহ দেশের ১৫ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে নাসিবের সভাপতি জানান, ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ধুমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে তামাকপণ্য বন্ধ করতে গিয়ে একজন মুদি দোকানকে যদি হাজার হাজার টাকা জরিমানা করা হয় তাহলে উদ্যোক্তা হারাবে বাংলাদেশ। কারণ একটি মুদিপণ্যের দোকানে শুধুমাত্র বিড়ি কিংবা সিগারেটই বিক্রি হয় না সেখানে অন্তত্ব তিন থেকে চার হাজার আইটেমের পণ্য থাকে। যেসব পণ্য এসএমই খাতে উৎপাদন করা হচ্ছে।

এ কারণে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটির সংশোধন এমনভাবে করতে হবে যাতে ব্যবসায়ী কিংবা উদ্যোক্তাদের স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি যুযোপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা এ বিষয়ে সবার মতামত দিয়েছে। সেই মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হবে। তিনি বলেন একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সিটি কর্পোরেশন কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয় থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনটি পাশ হলে তাকে ১৫-২০টি লাইসেন্স নিতে হবে যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বল্প পুঁজির উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই সহায়ক নীতিমালা প্রয়ণন করা জরুরি। এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি তরিঘড়ি করে সংশোধন করা ঠিক হবে না। খাতভিত্তিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে সংশোধনী আনা যেতে পারে তবে সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। নাসিবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান বেলাল জানান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেয়া না গেলে এসএমই খাতে উদ্যোক্তা সঙ্কট তৈরি হবে। কেউ আর ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে না।

জানা গেছে, স্বল্প পুঁজিতে, স্বল্প সময়ে অধিকসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের অনন্য প্রতিষ্ঠান হলো এসএমই খাত। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৭.০৭ শতাংশ, যেখানে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমএসএমই একটি শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর খাত। বর্তমানে দেশে কুটিরশিল্পসহ প্রায় ৭৮ লাখ মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে। এসএমই খাতে প্রায় ২.১ কোটি জনবল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত আছে। এ খাতের বিকাশের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গঠন। ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ এ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম হিসাবে ঘোষণা করেছে। বর্তমান এসএমই খাতকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে এসএমই নীতিমালা-২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ সংশোধনপূর্বক আরও এসএমইবান্ধব করার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content