আইন-আদালত

তিন ঘণ্টা পেটানোর পর কুয়েট ছাত্রের বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা

  প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ১:৩৬:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান (২২)কে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাকে ভর্তি অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার কুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার মো. সাদেক হোসেন প্রামাণিক (৩৫) খানজাহান আলী থানায় এ মামলা করেন। জাহিদুর রহমান ভোলা তজুমদ্দিন সোনাপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। মামলার অপর আসামি রেজওয়ান শ্যাম (২১) ভোলার বোরহানউদ্দিন মুশির হাট গ্রামের বাসিন্দা।

জাহিদুর রহমানের স্বজনরা বলেন, রোববার রাত ৯টায় ড. এম এ রশিদ হলের গেস্ট রুমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ডেকে নিয়ে যায়। একটি ছাত্র সংগঠনের ট্যাগ লাগিয়ে জাহিদকে ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত নির্মমভাবে পেটানো হয়, যার কারণে তিনি মারাত্মক আহত হন। ওই রাতেই পুলিশ তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জাহিদের বড় ভাই নাঈম বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সত্য নয়। আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। ও কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত না।

ড. এমএ রশিদ হলের প্রভোস্ট এমডি হামিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কিছু শিক্ষার্থী বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করে জাহিদুর রহমান বিভিন্ন দেশবিরোধী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছে সে। এটা নজরে আসায় ছাত্ররা তাকে প্রথমে একটু জিজ্ঞাসাবাদের পর আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করি। সে আমাদের কাছে বলেছে সে খেলাফতে বিশ্বাস করে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জাহিদুলকে কারা মারধর করেছে জখম করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার মন্তব্য করা একটু কঠিন হবে। আমরা পাওয়ার পর কেউ আঘাত করেনি। হতে পারে ছাত্ররা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছে। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন খান জানান, কুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার মো. সাদেক হোসেন প্রামাণিক বাদী হয়ে জাহিদুর রহমান এবং রেজওয়ান শ্যামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বর্তমানে জাহিদুল খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছে। তাকে ভর্তি অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ডিভাইজ দিয়ে আক্রমণাত্মক মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করে কুয়েট ছাত্রদের মধ্যে অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content