জানা-অজানা

জবাবদিহিমূলক সাক্ষাৎকার আদায় করবেন যেভাবে

  প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ১২:৫৭:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

রোয়ান ফিলিপ :
কঠিন অনুসন্ধানের মুখে পড়লেই বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নির্বাহীরা প্রায়ই সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যেতে চান, ফাঁকি দেন বা তাদের আইনজীবী ও জনসংযোগ উপদেষ্টার তৈরি করা বিবৃতির আড়ালে মুখ লুকান।

অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা বলেছেন, এসব লোকদের কথা বলানোর ক্ষেত্রে দুটি কৌশল বিশেষ কার্যকর: নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনার জ্ঞান ও নিরপেক্ষতার অতীত ইতিহাস জানিয়ে তাদের উদ্বেগ কমানো, আর আপনার বের করা নতুন প্রমাণ দেখিয়ে তাদের কৌতূহল জাগানো, এবং এরপর তাদের মতামত দেয়ার আহ্বান জানানো।

সম্প্রতি ২০২২ ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স অ্যান্ড এডিটরস কনফারেন্স (আইআরই২২)-এ “কঠিন সাক্ষাৎকার কীভাবে নেবেন” শীর্ষক একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই প্যানেলে চার জন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ছিলেন এবং তাঁরা বেশ কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন যা বৈরী ব্যক্তিদের কঠিন সাক্ষাৎকার নেয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে এসেছে৷
“আদর্শ সাক্ষাৎকারের সূত্র নিহিত “পাঁচটি T-তে: সত্যতা , স্বচ্ছতা, বিশ্বাস, সময় ও স্বরভঙ্গি (truth, transparency, trust, timing, and tone)।” — এসপিজে-র প্রেসিডেন্ট রেবেকা আগুইলার

তাঁদের সবাই একটি বিষয়ে একমত: অনিচ্ছুক সোর্সকে কথা বলতে রাজি করাতে হলে বা প্রয়োজনীয় উত্তর বের করে আনতে হলে, আপনাকে কিছু মূলা ঝুলাতে হবে। এটি হতে পারে, কিছু নথিপত্র দেখিয়ে তাদের মূল্যবান পরামর্শ চাওয়া; অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সামনে এনে তাদের মতামত দিতে বলা; তাদের আগ্রহী করে তুলবে এমন কোনো নতুন তথ্য জানানো; সংবেদনশীল সোর্সদের আগে কীভাবে সামলেছেন সেই প্রমাণ দেখানো; অথবা যত বাধা আসুক না কেন, বিনয়ী ভাব নিয়ে লেগে থাকা।

এই প্যানেলের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন আমেরিকার সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্ট (এসপিজে)-এর প্রথম লাতিন প্রেসিডেন্ট রেবেকা আগুইলার। তিনি টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার টেলিভিশন স্টেশনগুলোতে অনেক সাড়া জাগানো জবাবদিহিমূলক স্টোরি করেছেন এবং এর স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু পুরস্কার জিতেছেন৷ প্যানেলের অন্যেরা হলেন সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংয়ের অনুসন্ধানী পডকাস্ট রিভিল-এর রিপোর্টার জেনিফার গোলান, মার্শাল প্রজেক্টের স্টাফ রাইটার ক্যারি অ্যাসপিনওয়াল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের পুলিৎজার-জয়ী সিনিয়র অ্যাকাউন্টেবিলিটি রিপোর্টার রবার্ট লোপেজ।

স্নায়ূচাপে ভোগা এসব কর্মকর্তার নাগাল পেতে অ্যাগুইলার যেসব কৌশল অবলম্বন করেন তার মধ্যে সবচে কার্যকর হল, আশ্বাস। যেমন: “চলুন সামনাসামনি কথা বলি, আপনাকে কিছু কাগজ দেখাবো।”

কঠিন সাক্ষাৎকার বলতে যা বোঝায় তার সবই মিলবে আগুইলারের নেওয়া জবাবদিহিমূলক সাক্ষাৎকারগুলোতে। এদের একটি ছিল, যৌন হয়রানির রেজিস্ট্রিতে নাম ওঠা এক মার্কিন ডাক-কর্মীর (যারা চিঠি বিতরণ করেন)। আরেক সাক্ষাৎকারের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, এক দন্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রশাসক। তিনি একদল দন্ত চিকিৎসকের প্রতিনিধিত্ব করতেন, যারা প্লাস্টিক সার্জারির দক্ষতা বাড়াতে বয়স্ক রোগীদের মুখের ওপর হাত মকশো করতেন বলে অভিযোগ ছিল। এগুলোসহ আরও অনেক ঘটনায় তিনি অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের কথা বলতে রাজি করিয়েছেন, আর এক্ষেত্রে তাঁর কৌশল ছিল কিছু একটা দেখানো- যেমন, কারো ছবি বা তাদের অদেখা কোনো নথি।

অ্যাগুইলারের মতে, আদর্শ সাক্ষাৎকারের সূত্র নিহিত “পাঁচটি T-তে: সত্যতা , স্বচ্ছতা, বিশ্বাস, সময় ও স্বরভঙ্গি (truth, transparency, trust, timing, and tone)।” তিনি বলেন, বেশিরভাগ রিপোর্টারই তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সততার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন, তবে সময় ও স্বরভঙ্গির (আচরণ) গুরুত্ব অতটা বোঝেন না।
“সাংবাদিকদের সঙ্গে সোর্সদের বসতে না চাওয়ার বিষয়টি একরকম নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরং তারা লিখিত বিবৃতি দিতে চায়।” — এলএ টাইমসের অনুসন্ধানী সাংবাদিক রবার্ট লোপেজ

আগুইলার জানান, কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকারের জন্য রাজি হবেন কিনা, বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করবেন কিনা- তা নির্ভর করে কঠিন অনুসন্ধানের মুখে তিনি কতটা চাপে বা ব্যক্তিগতভাবে কতটা ঝুঁকিতে আছেন, তার মাত্রার ওপর; আর এর সঙ্গে সাংবাদিকের রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা মেলে না বললেই চলে।

“কখনো কখনো তাদেরকে দম নেয়ার সময় দিতে হবে, কারণ তারা হয়তো জানেন যে তারা বিপদে পড়ে গেছেন, আর আপনাকে এটি মেনে নিতে হবে,” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন। “এরপরও আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন, আর জানাতে পারেন যে আপনি কী খুঁজছেন।”

অ্যাগুইলারের পরামর্শ হল, যাদের পিছু নিয়েছেন তাদের আচরণ বিরূপ বা অপমানজনকও হলেও নমনীয় স্বরটা ধরে রাখার স্বার্থে রিপোর্টারদের “চরম বিনয়ী” হওয়ার চর্চা চালিয়ে যাওয়া উচিত – “আর কখনোই তাদের হুমকি দেবেন না।”

“স্বরভঙ্গিটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময়ই এমন, ‘হাই! আমি অমুক স্টেশন থেকে রেবেকা আগুইলার! কেমন আছেন?”’ হাসিমুখে তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, আপনার যোগযোগের কারণ সম্পর্কে সৎ ও পরিষ্কার থাকা উচিত, তবে আপনার অযথা আগ্রাসী হওয়ার প্রয়োজন নেই। “‘আমি জানি আপনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, তাই আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই’ এমনটা না বলে আপনি বলতে পারেন, ‘অমুক সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা জানতে আগ্রহী।’”

অ্যাগুইলারের পরামর্শ: অ্যাড হোমিনেম আক্রমণ বা ব্যক্তিগত অপমান দ্বারা তাড়িত হবেন না। “যদি কেউ বলে: ‘আপনি একজন বাজে সাংবাদিক’ বা আরও খারাপ, আমি শুধু বলি, ‘আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমি এখনো ওমুক বিষয়ে জানতে চাই।”

এলএ টাইমসের লোপেজ বলেছেন, এখন সম্মুখ সাক্ষাৎকার নেয়ার দক্ষতা বাড়ানো ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তা ও নির্বাহীদের মধ্যে ইমেইলে প্রশ্ন চাওয়ার আড়ালে নিজেদের মুখ লুকানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

“দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সাংবাদিকদের সঙ্গে সোর্সদের বসতে না চাওয়ার বিষয়টি একরকম নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরং তারা লিখিত বিবৃতি দিতে চায়,” তিনি বলেন। “জবাবদিহিমূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতি কোনো কাজে আসে না, কারণ আপনি শুধু আপনার প্রশ্নের জবাবে তাদের পাঠানো প্রতিক্রিয়াটাই জানতে পারেন।”

নিঃসন্দেহে, সাক্ষাৎকার নেয়ার অগণিত কার্যকর পন্থা ওয়াচডগ সাংবাদিকেরা খুঁজে পেয়েছেন, যার অনেকগুলো জিআইজেএনের আগের স্টোরিগুলোতে উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকারের কলাকৌশল নিয়ে আমাদের একটি রিসোর্স গাইডও আছে। এসব কৌশলের অনেকগুলোতেই বলা হয়েছে, একটি সফল জবাবদিহিমূলক সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বিশদ প্রস্তুতি, সতর্কতার সঙ্গে জায়গা বাছাই এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা।
রাস্তায় বৈরী সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে, প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিজেদের কৌশলগুলোকে স্থানীয় রীতিনীতি অনুসারে সাজাতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে কয়েক মুহূর্তের নীরবতায়ও মানুষ অস্বস্তি বোধ করে, আর সাক্ষাৎকারদাতা এই নীরবতা ভাঙতে নিজ থেকে হুট করে কিছু বলে ফেলেন কি না, তা দেখতে রিপোর্টাররা সেই অস্বস্তিকর বিরতি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে, অনেকটা সময় কথা না বলেও মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে – আর একজন রিপোর্টার আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে সাক্ষাৎকারে কঠিন বা বিব্রতকর প্রশ্ন করে বসলে, তারা বিরক্ত হতে পারেন।

আইআরই২২ প্যানেলে বক্তারা আরও কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন, যা তাদের নিজেদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে কাজে এসেছে।

সাক্ষাৎকার আদায় করে নেওয়ার কৌশল

একই বিষয়ে আপনার আগের কাজগুলো দেখান। লোপেজ বলেন, “একই বিষয়ে আপনার করা আগের কাজগুলো দেখানোর চেষ্টা করুন – যদি এটি একটি ধারাবাহিক হয়, তাহলে সেই ধারাবাহিকের আগের স্টোরিগুলোর কথা বলুন। সনাক্ত হওয়ার শঙ্কায় থাকা যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের এই বিষয়ে আপনার স্টোরিগুলো দেখান এবং বলুন, ‘আপনি দেখুন, জীবিত কারো পরিচয় আমরা প্রকাশ করিনি, আর আপনার ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হবে না।’”
তারা কথা বলবে না, এমনটি কখনো ধরে নেবেন না। “যে কোনো কিছু হতে পারে। যা যা করতে হয় করুন, দরকার হলে হাতে চিঠি লিখে পাঠান,” অ্যাস্পিনওয়াল বলেন। অ্যাগুইলারও একমত: “প্রশ্ন করতে থাকুন এবং হাসিমুখে করুন।”
আপনার নিজের উইকিপিডিয়া পেজ বা ক্লিপস ব্লগ শুরু করুন। “কীভাবে আমি তাদের আস্থা অর্জন করব? — আমি মানুষকে বলি, আমাকে গুগলে দেখুন,” অ্যাগুইলার ব্যাখ্যা করে বলেন। “আপনার নিজের উইকিপিডিয়া পেজ চালু করুন, আর আপনি বলতে পারেন, ‘আমার উইকি পেজটি দেখুন।’ হ্যাঁ, মানুষ হয়ত এই পেজে আপনার সম্পর্কে আজেবাজে কথা লিখতে পারে, কিন্তু আপনি তা ঠিকও করতে পারেন।”
ইমেইলে প্রশ্ন পাঠানো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন, বরং চিঠি পাঠান বা বোঝানোর চেষ্টা করুন। “ইমেইলে প্রশ্ন চাওয়া একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে,” লোপেজ বলেন। “আপনাকে বলতে হবে: ‘লিখিত বিবৃতি যথেষ্ট নয়; প্রশ্ন লিখে, তার উত্তর দিয়ে এবং তারপর আবার তার ব্যাখা চেয়ে আমরা কেবল সময় নষ্ট করছি; আমি শুধু তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই — আমার কাছে প্রশ্ন নেই কারণ আপনার জবাব এখনো আমার অজানা, তাই সবচেয়ে ভালো হবে যদি আমরা একসঙ্গে বসি এবং এটি সেরে ফেলি।’” অ্যাস্পিনওয়াল যোগ করে বলেন, ইমেইলে সাক্ষাৎকার চাওয়ার ক্ষেত্রে একটি করণীয় বিষয় হলো প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে আপনার রিপোর্টিংয়ের একটি সারাংশ যুক্ত করা। “ইমেইলে প্রশ্ন না পাঠিয়ে বরং, আপনি একটি লিখিত বিবরণ পাঠান, মোটাদাগে: ‘স্টোরিতে যা বলা হবে, মানুষ আমাদের যা বলেছে, এটি মূলত তাই,’” তিনি বলেন। “কখনও কখনও মানুষকে কথা বলাতে এতটুকুই যথেষ্ট। কেউ কেউ বলবে: ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষাৎকার দেব কারণ আপনার কিছু ভুল হয়েছে।’”
একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অনুরোধ জানান। “সেই ব্যক্তির বন্ধু ও আশেপাশের মানুষদের দিকে নজর দিন – ব্যাখ্যা করে বলুন: ‘এই যে, ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গেছে, তাই আমাকে ন্যায্য থাকতে হবে। এটি কর্মকর্তার কাছ থেকেই শুনতে হবে,’” আগুইলার বলেন। “চাপে থাকা মানুষগুলো কারো না কারো প্রতি নির্ভর করে। সেটি হতে পারে তাদের পুরোহিত, তাদের যাজক, তাদের যোগাসন গুরু, বা অন্য যে কেউ। আপনার কাজের একটি অনুলিপি সেই ব্যক্তিকে দিন যেন তারা ঐ কর্মকর্তাকে দেখাতে পারে, আর বলতে পারে, ‘আরে, উনি তো আগে ন্যায্যতার সঙ্গেই কাজ করেছেন।’
তাদের নজরে পড়তে, না জানিয়ে দেখা করতে চলে যান। অ্যাগুইলার বলেছেন, হুটহাট যখন তখন কর্মকর্তাদের দপ্তরে হানা দিয়ে সচরারচর তাদের সাক্ষাৎকার পাওয়া যায় না, তবে তারা পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য ঐ সাংবাদিকদের কথা ভাবতে পারেন – বিশেষ করে সেখানে যদি বিনয়ী ও নম্র থাকা যায়। যেমন, বয়স্ক রোগীদের লাঞ্চিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক সরকারি ডেন্টাল সার্ভিসের প্রধানের সাক্ষাৎকার পেতে, আগুইলার তার অফিসে উপস্থিত হন এবং তার সহকারীকে বলেন: “ওহ, এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম; ভাবলাম তাঁর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলি।” সেখানে যাওয়া এবং সেই কর্মকর্তার অ্যান্সারিং সার্ভিসে ফলো-আপ কলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেমনটা ভেবেছি, পরদিনই তিনি আমাকে আবার ফোন করেন। কেন? কারণ, আমার মনে হয় আমি বরাবরই হাসিমুখে ছিলাম। আমি বললাম, ‘আমার আপনার সঙ্গে কথা বলা দরকার।’ তিনি বললেন ‘আমি পারব না, আমি সরকারের কাজ করি,’ আর আমি বললাম: ‘ওহ, ব্যাপারটা দারুণ; আমার বোনও সরকারের কাজ করে!’ আমি আরও বললাম: ‘আসুন সামনাসামনি কথা বলি, কারণ আমি আপনাকে কিছু নথিপত্র দেখাতে চাই।’ আমি এতই মধুর আচরণ করেছিলাম যে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে ঢুকতে দিয়েছিলেন।”

অ্যাস্পিনওয়াল বলেন, সাংবাদিকেরা যেন সরকারি নথির নাগাল না পান, সে জন্য কর্মকর্তারা অনেক সময় নানা অজুহাত দেখান; যেমন, অনেক বেশি নথি চাওয়া হয়েছে বা কাগজে কপি করতে মোটা অঙ্কের খরচ লাগবে । “আমার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: আপনি কি কখনও পোর্টেবল ব্যাচ স্ক্যানার সঙ্গে রেখেছেন?” তিনি প্রশ্ন করেন। “এটি সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পাইয়ে দেয়। আমি যেখানে যাই, ব্যাচ স্ক্যানার সঙ্গে রাখি, আর তাই এটি কাজে লাগিয়ে আমি বিনামূল্যে কপি করি।”

একটি কলেজে যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে কাজের সময়, লোপেজ একই পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি জানান: পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক সোর্স তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখার সুযোগ করে দেন, তবে সেটি কপি করতে দেননি। নথিটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, পরবর্তীতে সেটি রিপোর্টে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সোর্সের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসেন তিনি।
“আমি ৪১ বছর ধরে এই কাজ করছি, আর এখনও আমি কঠিন সাক্ষাৎকারের আগে উত্তেজনা বোধ করি। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি কাদের জন্য এ কাজ করছেন।” — রেবেকা আগুইলার

লোপেজ জানান, “কত জনের কাছে নথিগুলো থাকতে পারে, সে নিয়ে আমরা কথা বলি, এবং উৎস-প্রকাশের কৌশল সম্পর্কে একমত হই – এই নথি আমি এমনভাবে বর্ণনা করব যেন ঘটনার সত্যতা উঠে আসে, কিন্তু সোর্সের পরিচায় জানা না যায়,” তিনি বলেন৷ তাই নথিটি যারা দেখেছেন তাদের প্রত্যেককে ফোন করেছিলেন লোপেজ– আরও তথ্য পাওয়ার জন্য নয় বরং বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে তাঁর সোর্সকে রক্ষা করার জন্য, যেন সেই ব্যক্তিরা বলতে পারেন যে তাদের সাথে একজন রিপোর্টার যোগাযোগ করেছেন। “সেই ব্যক্তির মূল উদ্বেগের জায়গা কী, তা খুঁজে বের করাই মূল বিষয়,” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন।
কঠিন সাক্ষাৎকার যেভাবে নেবেন

মূল অভিযোগের প্রধান তথ্যগুলো জোগাড় করুন — আর ভাবুন উত্তর এড়ানোর সম্ভাব্য কৌশলগুলো কী হতে পারে। যাদের জন্য বন্দুক কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের হাতেই অভ্যন্তরীণ গোলাগুলির ঘটনা অনুসন্ধান করছিলেন গোলান। তিনি বুঝতে পারেন যে ইউএস ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্ম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ (এটিএফ) এ ধরনের অপরাধী ও ভুক্তভোগীদের পরিসংখ্যান ট্র্যাক করে। কিন্তু তাঁর কাছে প্রমাণ ছিল না, সংস্থাটি এমন তথ্য সংগ্রহ করেছে কিনা। এটিএফ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে, গোলান প্রশ্ন সাজিয়েছিলেন তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে, যেন তারা প্রশ্নগুলোকে পাশ কাটাতে বা অস্পষ্ট উত্তর দিতে না পারে: “অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কতজনের ওপর অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?” দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্বীকার করতে বাধ্য হন: “সংখ্যাটি আমার জানা নেই; কেউ জানে কি না, আমি তাও নিশ্চিত নই।” প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানতে চান: “বন্দুক রাখার অনুমতি নেই, এমন লোকের হাতে কী পরিমাণ সহিংস আবাসিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।” উত্তর: “আমি জানি না।” গোলান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যখন এমন অবাক করা বক্তব্য দেবেন, তখন একটি ফলো-আপ প্রশ্নের মাধ্যমে ফের স্বীকারোক্তি আদায় করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রেডিও এবং টিভি সাংবাদিকদের জন্যে; যেমন: “তাহলে আপনি জানেন না অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের হাতে কতজন লোক মারা গেছে…?”
‘অ্যাম্বুশ’ সাক্ষাৎকার শুরু করুন ছোটখাটো আলাপ বা মতামত জানতে চেয়ে। রাস্তায় বৈরী সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাগুইলার বলেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সময়টি পার করার সেরা উপায় হলো হালকা আলোচনা, ছোটখাটো আলাপ ও সাক্ষাৎকারদাতার মতামতের প্রতি আগ্রহ দেখানো। “আপনি কেন…” – ধরনের সরাসরি আক্রমণমূলক প্রশ্নে না গিয়ে বরং জনসাধারণ কী জানতে চায় তা দিয়ে শুরু করা ভালো: “এমন কিছু বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চাই, যা নিয়ে মানুষ চিন্তিত।” শিশুদের যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত এক ডাক-কর্মীর সঙ্গে কথা বলার জন্য অ্যাগুইলার একটি বৃষ্টির দিন বেছে নিয়েছিলেন – যেন তিনি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে সাক্ষাৎকারটি শুরু করতে পারেন: “হায় খোদা, আপনি সত্যিই এমন আবহাওয়ায় বাইরে যান!” এরপর, তিনি ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে টিভি ক্যামেরা নিয়ে ঐ ব্যক্তির সম্ভাব্য উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছিলেন: “ক্যামেরার পিছনে জন- জন, হাই বলো?” তারপর তিনি বললেন, “শুনুন, কিছু বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে। আমি জানতে পেরেছি যে আপনি একজন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী।’ তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ‘আমি।’” তিনি তারপর প্রসঙ্গ কিছুটা বদলালেন আর তার কাছে মতামত জানতে চাইলেন: কেন তিনি ভেবেছিলেন যে শিশুদের এত কাছে গিয়ে চিঠি তুলে দেওয়া সবাই মেনে নেবে? লোকটি বললেন: “আমি তো আমার সাজা কাটিয়েছি; আমার একটি চাকরির দরকার ছিল।” অ্যাগুইলার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি রেখেছিলেন শেষের জন্য আর এটিকে একটি বিবৃতির মত করে তুলে ধরেছিলেন: “আমি শুনেছি আপনি আপনার সৎ মেয়ের শ্লীলতাহানি করেছেন।” উত্তরে লোকটি বলল: “আমি আমার সৎ মেয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” “আমার কাছে আরও নথি থাকলে সেগুলো আমি তাকে দেখাতাম – আর জানতে চাইতাম, ‘এগুলো সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন?’” আগুইলার বলছিলেন। “তাদেরকে শত্রু বানাবেন না, আপনার কাজ মতামত জানতে চাওয়া।”
ফিচার বা প্রোফাইলের জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়ার ভান করে, তারপর হঠাৎ অভিযোগের প্রশ্ন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। “উদ্দেশ্যের জায়গায় সত্যনিষ্ঠ থাকুন,” অ্যাগুইলার বলেছিলেন। “আমি এমন রিপোর্টারদের জানি যারা এক কথা বলে সাক্ষাৎকার নিতে যান, তারপর হুট করে প্রসঙ্গ বদলে ফেলেন – এটি ঠিক নয়।”
কোনো সোর্স সমস্যাটি হালকা হিসেবে দেখাতে শুরু করলে “সিক্সটি মিনিটসের কৌশলে” তাদের ফের ফের জবাবদিহিতে নিয়ে আসুন। উপস্থাপকেরা প্রায়ই “সিক্সটি মিনিটস” এর মত টিভি নিউজ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝেই অতিথিদের বিবৃতির শেষ দুই বা তিনটি শব্দ শক্তিশালী সাউন্ড বাইট হিসেব তুলে ধরেন, যা সাক্ষাৎকারদাতাও প্রতিধ্বনি করেছেন। (এমন বাক্য, “তাহলে এটি আসলে পুরোপুরি পরিকল্পিত প্রতারণা?” সোর্স বলছেন “পুরোপুরি প্রতারণা;” অথবা “তাহলে সিগারেট স্রেফ নিকোটিন বিতরণের ব্যবস্থা” আর সোর্স বলছেন, “নিকোটিন বিতরণের ব্যবস্থা”।) আইআরই২২ এর এই প্যানেল জোর দিয়ে বলেছে যে প্রচারের জন্য উদ্ধৃতি কেটে তুলে ধরার এই কৌশলটি রিপোর্টারদের ব্যবহার করা উচিত নয় – কারণ বিষয়টি সাক্ষাৎকারদাতার মুখে শব্দ তুলে দেয়ার মত মনে হতে পারে। তবে, তাঁরা বলেছেন যে কৌশলটি প্রিন্ট, রেডিও বা টিভি সাক্ষাৎকারে মূল অভিযোগ বা স্টোরিতে অন্যায়ে পুনরায় নজর দিতে সহায়ক হতে পারে। “এটি সত্যিই একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে যখন উপসংহারে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়, বা ছেঁকে রহস্যময় তথ্য বের করা যায়,” অ্যাস্পিনওয়াল বলেছেন। “অন্যভাবে, আপনি জানতে চাইতে পারেন ‘এটি বলা কি এতটাই সহজ?’; অথবা ‘আপনি কি এ বিষয়ে রাজি হবেন…?’” অ্যাগুইলার সতর্ক করে বলেছেন: “তবে এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে আপনাকে নৈতিকভাবে সতর্ক থাকতে হবে।”
যে কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে মন্তব্য না করার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের একটি ছক আঁকুন। “আপনি হয়ত এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে আপনার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করার আগে সম্ভবত একটিই প্রশ্ন করতে পারবেন,” গোলান উল্লেখ করেছেন। “তাই আমি আগে থেকেই সতর্কতার সঙ্গে ঠিক করেছি যে কীভাবে প্রশ্নটি তুলে ধরব। একবার এক ঘটনায়, কেউ একজন বন্দুক নিয়ে এসেছিল – সে আমাকে তার জায়গা থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। আপনাকে সেই মুহূর্তের জন্যেও প্রস্তুতি রাখতে হবে।”

“আমি ৪১ বছর ধরে এই কাজ করছি, আর এখনও আমি কঠিন সাক্ষাৎকারের আগে উত্তেজনা বোধ করি” – অ্যাগুইলারের অকপট স্বীকারোক্তি। “কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি কাদের জন্য এ কাজ করছেন। আমরা এখানে জনসেবা করছি। অনেক সময় সোর্সের আচরণ বিরূপ হবে – তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি নিজে বিরূপ হচ্ছেন, ততক্ষণ আপনি সাক্ষাৎকার পাবেন।”

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

Verified by MonsterInsights