২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শিরোনাম
চল্লিশ কাহনিয়া প্রবাসী কল্যাণ সমিতির মানবিক কাজে মুগ্ধ গ্রামবাসী ডিওয়াইডিএফ ও একশনএইড এর আয়োজনে রিপ্রেজেনটেশন অফ ইয়াং পিপল ইন ডিসিশন মেকিং স্ট্রাকচার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  বরিশালের নন্দিত কাউন্সিলর বাহারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় অভিযোগ জালিম বাহাদুরের জুলুম : প্রতিদান দুনিয়া থেকেই আকছার শুভ জন্মদিন পালিত সাংবাদিক আবদুল আলীম হিমুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত ডলফিন রক্ষায় জরুরী ব্যবস্হা গ্রহণের আহবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মুখ ঢেকে ক্লাসে আসার নির্দেশ দিল তালেবান

জালিম বাহাদুরের জুলুম : প্রতিদান দুনিয়া থেকেই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

মামুনুর রশীদ নোমানী : প্রতিদিনই একটি সকাল আসে। সকালটি কারো জন্য শুভ আবার কারো জন্য অশুভ। সকাল হলেই সূর্য তাপ ছড়িয়ে দেয়। নদী থেকে পানি এদিক ও দিক গড়িয়ে যায়। এ নিয়ম নুতন নয় বহু দিনের, বহু বছরের। যুগ থেকে যুগ। প্রশাসক আসে প্রশাসক যায়। রুটিনের তফাৎ নেই। সূর্য আলো দেয়া বন্ধ করেনি।নদীতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়নি। আল্লাহর সৃষ্টি। তাই যুগ যুগ ধরে সূর্য, চন্দ্র আলো দিয়ে যাচ্ছে।আলো আসবেই আধাঁরের পরে।

এক জঙ্গলে ছিল এক অত্যাচারী শাসক। তার অত্যাচার থেকে কেউ রেহাই পায়নি। হোক সে জঙ্গলের বা জলের। অত্যাচারি শাসকের প্রতি সকলেই বিরক্ত।ঘরে ঘরে বদদোয়া চলে ।কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।সেই অত্যাচারীর অত্যাচার বেড়েই চলছে। কারো কোন পদক্ষেপ নেই। জঙ্গলে থাকা হঠাৎ একদিন এক দুর্বল প্রজা কুয়ায় ফেলে দিল। শাসক কুয়ায় পরে রইলো কিছুদিন। অত্যাচারী শাসকের চ্যালা -চামুন্ডরা গা ঢাকা দিল। স্বস্তিতে জঙ্গল ও জলের প্রজারা। দুর্বল প্রজাদের ঘরে ঘরে চলছে নানান জল্পনা আর কল্পনা। সেই সাথে সেই সমানে চলছে বদ দোয়া। দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হলো।

আল্লাহ তায়ালা ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু ছেড়ে দেননি। মনে রাখবেন আল্লাহ তায়ালা ছাড় দেন ছেড়ে দেন না। এই জুলুমের শেষ একদিন হবে ইনশাআল্লাহ্‌। হয়তো অচিরেই।

বিখ্যাত মহাপুরুষ কনফুসিয়াস বলেছেন,অত্যাচারী শাসক হিংস্র বাঘের চেয়েও খারাপ। যথার্থই বলেছেন সেই মহাপুরুষ কনফুসিয়াস। কারন হিংস্র বাঘের কাছে থাকেনা কোন মানবতা। থাকেনা কোন দয়া ও মায়া।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছ থেকে ফেরত আসে না। এক. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া। দুই. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া। তিন. মজলুমের দোয়া। আল্লাহ তাআলা তাদের দোয়া মেঘমালার ওপরে তুলে নেন এবং তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেন। মহান রব বলেন, আমার সম্মানের শপথ, কিছুটা বিলম্ব হলেও আমি তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৯৮)

অত্যাচার এর আরবী শব্দ জুলুম । এর অর্থ হলো নির্যাতন বা অবিচার। সাধারণ অর্থে কাউকে অন্যায়ভাবে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক বা যেকোনো পন্থায় অবিচার বা নির্যাতন করাকে জুলুম বলে।

অন্যের ওপর অন্যায় বা অবিচার করে নিজের পতন ও ধ্বংস ডেকে আনে জালিমরা। অত্যাচার আল্লাহ এটিকে হারাম করেছেন। রাসুল (সা.) হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৩৭)।

জালিমদের জুলুমের কারণে পুরো সমাজে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। সেই সব জালিম কি ধ্বংসের পথে না হেদায়েত এর পথে তা আল্লাহ মালুম।

জালিমকে আল্লাহ বরদাশত করেন না। অন্যের ওপর জুলুম, নির্যাতন করে জালিমরা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে।
কুরআনের ঘোষণা, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা জুলুমে লিপ্ত ছিল’ (সূরা ইউনুস ১০-১৩)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, সে আর ছুটে যেতে পারে না’ (বায়হাকি-৬/৯৪; বুখারি-৪৬৮৬; মুসলিম-২৫৮৩)।

জালিমরা সাধারণ লোকের প্রতি হিংসার বশবর্তী হয়ে নির্যাতন, নিপীড়ন করে। ফলে একসময় জালিম বা অন্যায়কারীর জীবনে নেমে আসে নানা বিপদ-আপদ। যারা মানুষের ওপর জুলুম করে এবং প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের শাস্তি প্রদান করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬১৩)।

পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা জুলুমের ব্যাপারে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অচিরেই জালিমরা জানতে পারবে, তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল কোথায় হবে।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ২২৭)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জালিমরা কখনো সফলকাম হয় না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৭)

জুলুমের পরিণাম খুবই ভয়াবহ। জুলুম এমন একটি অন্যায় কাজ, যার শাস্তি আল্লাহ তাআলা ইহকালেও দিয়ে থাকেন। জালিমের বিচার শুধু কিয়ামতের দিবসেই হবে না, বরং দুনিয়া থেকেই আল্লাহ তাআলা তাদের জুলুমের প্রতিদান দেওয়া শুরু করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি পাপের শাস্তি আল্লাহ তাআলা আখিরাতের পাশাপাশি দুনিয়ায়ও দিয়ে থাকেন। তা হলো, জুলুম ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা শাস্তি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১১)

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের জালিমদের অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে রক্ষা করেন এবং মজলুমের অভিসম্পাত থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। আমিন।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪.কমে প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।