২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

৩৮ স্ত্রী ৯৪ সন্তান ৩৩ নাতি-নাতনি রেখে পরপারে তিনি

আপডেট: জুন ১৫, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

৩৮ স্ত্রী, ৯৪ সন্তান ও ৩৩ নাতি-নাতনি নিয়ে গঠিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ একান্নবর্তী পরিবারের প্রধান ভারতের মিজোরামের বাসিন্দা জিওনা চানা ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জানা যায়, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় মিজোরামের ত্রিনীতি নামক হাসপাতালে জিওনা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছিল তার।

Mizoram Man, Head of World's Largest Family With 39 Wives & 94 Kids, Passes  Away at 76

১৯৪৫ সালের ২১ জুলাই তার জন্ম। প্রথম স্ত্রী তার চেয়ে তিন বছরের বড়। জিওনার বয়স যখন ১৭ তখন তিনি তাকে বিয়ে করেন। এরপর একে একে তিনি ৩৮ জনকে বিয়ে করেছেন। তাদের সন্তানের সংখ্যা ৯৪ জন।

মিজোরামের পাহাড়ি এলাকায় চার তলা একটি বাড়িতে সর্ববৃহৎ ওই পরিবারের বাস করছে। ‌‘ছুয়ান থার রুন’ বা ‘নতুন প্রজন্মের বাড়ি’ নামে ওই বাড়িতে রয়েছে শতাধিক কক্ষ। তবে গোটা বাড়ি মিলে রান্না করার ঘর একটি। সেখানেই পুরো পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ভবনের পৃথক পৃথক কক্ষে জিওনা চানার সন্তানরা, তাদের স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের বাস। অপরদিকে বাড়িটির একটি গণরুমে বাস করেন তার স্ত্রীরা। স্ত্রীদের ঘরের সঙ্গে লাগোয়া ঘরটিতে থাকতেন জিওন চানা। সেটাই তার ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ।

সব মিলিয়ে পরিবারটির সদস্য সংখ্যা ১৮১ জন। চানার পুত্রবধূ রয়েছেন ১৪ জন। জিওনা চানা অবশ্য নিজেকে ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান বলে দাবি করেন। নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও তার অনুসারীর দেওয়া অর্থ দিয়েই চলতো বিশাল এই পরিবার।

এর আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিওনা বলেন, ‘ঈশ্বরই আমাকে এত বড় পরিবার দেখার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সত্যি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ৩৯ রমণীর স্বামী ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবারের প্রধান হওয়াটা বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

চানার পরিবার সামরিক বাহিনীর মতো কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলে। বড় স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি বাড়ির ধোয়ামোছা, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সব কাজ তদারকি করেন। এক সন্ধ্যার ভোজে তাদের লাগে ৩৩টি মুরগি, ১৩২ পাউন্ড আলু ও ২২০ পাউন্ড চাল।

Ziona

প্রথম স্ত্রী যাথিয়াঙ্গির তৈরি করা কর্মতালিকা রয়েছে। গৃহস্থালির কাজ সামলানোর ক্ষেত্রে তার ওই তালিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। আদিবাসী খৃস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান জিয়োনা চানার পরিবার একটু ভিন্নভাবেই ধর্ম পালন করে।

১৯৩০ সালের শুরুর দিকে জিয়োনার বাবা চালিয়েন চানা সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারক-বাহক এই চানা পরিবার। এলাকায় তাদের অনুসারী রয়েছে অসংখ্য। আর এ কারণেই তাদের পরিবারটিকে গ্রামের নেতা হিসেবে সব নির্দেশ মেনে চলা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪.কমে প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।