২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
কুকরি মুকরিতে ২শ’ জেলে পরিবারের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থান সহায়ক উপকরণ বিতরণ চরফ্যাশনে ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ ইকোট্যুরিজম প্রকল্প পিকেএসএফ এর মহাব্যবস্থাপকের পরিদর্শন ভোলায় ৯ ইউপিতে আ.লীগ, তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী ইউপি নির্বাচনে নলছিটির ১০ ইউনিয়নেই নৌকা বিজয়ী বানারীপাড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুক্তিযোদ্ধা সহ আহত ৬ বরিশালের বানারীপাড়ায় ৭ ইউপিতে নৌকার জয় আমতলী উপজেলার ৬টি ইউপি নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে ৪টি আ’লীগ ও ২টি স্বতন্ত্র বিজয়ী সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, হতাহত ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে ভোলার ৪ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন তজুমদ্দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’

আপডেট: মে ১৯, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

দেশে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, হয়রানি ও মামলার ঘটনায় সরকার দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিচ্ছে। এ ঘটনায় স্পষ্ট যে বর্তমানে আমলাদের কাছে সবাই জিম্মি হয়ে আছে।

‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে সংবাদমাধ্যম ও বাক্স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক ওয়েবনিয়ারে এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা। মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আজ বুধবার দুপুরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

আইনজীবী শাহদীন মালিক

আইনজীবী শাহদীন মালিক
ফাইল ছবি

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, হয়রানি ও মামলার প্রতিবাদে দেশে সব পেশাজীবীই প্রতিবাদ করছেন। এ থেকে সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আইন তাঁর নিজস্ব গতিতে চলে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য আসলে ভাঁওতাবাজি।

দেশের আইন সরকারের গতিতে চলে—এমন মন্তব্য করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, কেনাকাটার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণেই রোজিনা ইসলামের সঙ্গে এমনটি হয়েছে। সরকার যেটাকে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বলে, সেটি আসলে সরকারের নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিষয়। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার চায় সবাই রোবট বা পুতুল হয়ে থাকুক। সরকার আমাদের নীরব করতে চায়। এ সময় সামষ্টিকভাবে সরব হয়ে সবাইকে প্রতিরোধ করতে হবে।’

আনু মুহাম্মদ

আনু মুহাম্মদ

রোজিনা ইসলামের হেনস্তার ঘটনায় তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই ঘটনায় তথ্যমন্ত্রীকে কোনো দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে না। সরকারের ঢোল পেটানো ছাড়া তাঁর আর কোনো কাজ নেই।’

বদিউল আলম মজুমদার

বদিউল আলম মজুমদার

সরকার দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রোজিনা ইসলামকে আটক, হেনস্তা ও মামলা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিচ্ছে। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে তথ্য জানার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে যে তথ্য আছে, নাগরিকের সে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার আছে। এটি নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই।

আসিফ নজরুল

আসিফ নজরুল
ফাইল ছবি

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, মামলার ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তারা ‘ক্ষমতা’ দেখিয়েছেন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। অথচ তাঁরা নিজেদের জনগণের প্রভু ভাবেন। রোজিনা ইসলামের হেনস্তার ঘটনায় এটাই দেখা গেছে। রোজিনার গলা চেপে ধরা ওই হাত সারা দেশের মানুষের ওপর হাত।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গঠিত কমিটি দিয়ে নয়, নিরপেক্ষ ন্যায়পাল নিয়োগ করে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। যে নিপীড়নের বার্তা দেওয়া হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন আর না ঘটে, সেটিই সবার চাওয়া।

সারা হোসেন

সারা হোসেন

আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, আইনি কাঠামো ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক আছে। সেটি রোজিনা ইসলামের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে। তাঁকে যে আটক ও হয়রানি করা হলো, এর জন্য দায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারা যা করেছেন, তা আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।

বাংলাদেশে স্পষ্টত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বলে মন্তব্য করেন মতপ্রকাশ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক প্রধান ফারুখ ফয়সাল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কী এমন তথ্য ছিল যেটিতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এ ঘটনায় সারা বিশ্বে দেশের সম্মান নষ্ট হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো বক্তব্য দেননি।

ফারুখ ফয়সাল আরও বলেন, রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়েছে। তাঁর ব্যাগে যে কর্মকর্তারা কাগজ ঢুকিয়ে দেননি, তার কী প্রমাণ আছে। তাঁকে আটকে রাখা, হেনস্তা করার ক্ষমতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কে দিয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এটা করেছেন।

দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে—এই মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সাংবাদিকের কাজই তথ্য বের করে আনা। সেটাই রোজিনা ইসলাম করেছেন। অথচ ঔপনিবেশিক আইন দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর সব সরকার মিথ্যা বলে, সরকার তথ্য লুকাতে চায়। তিনি বলেন, রোজিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। এ কারণেই তিনি আক্রোশের শিকার হয়েছেন।

ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন মানবাধিকারকর্মী শাহনাজ হুদা।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪.কমে প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।