১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শিরোনাম
শ্রাবনের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া  বেতাগীতে বুড়ামজুমদার যুব সংঘের উদ্যোগ শতাধিক কর্মহীদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ আনন্দ Friends for Life and FFL BD Foundation also distributed Eid clothes among the underprivileged in Barisal বরিশালে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল ফ্রেন্ডস ফর লাইফ ও এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন জাতীয় পার্টির বরিশাল মহানগর, জেলা ও সদর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে ঈদ সামগ্রী দিল এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন বরিশালে জাতীয় শ্রমিক পার্টির অসহায় ও কর্মহীনদের মাঝে ত্রান বিতরন

আনভীরকে রক্ষায় শারুনের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা!

আপডেট: মে ৪, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অভিযোগ উঠছে, আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে রক্ষা করতে গত তিন দিন ধরে ভিকটিম কলেজছাত্রী মুনিয়ার চরিত্র হননে ঘৃণ্য মিথ্যাচার করছে একটি মহল। বিশেষ জায়গা থেকে সরবরাহ করা একই লেখা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ঘৃণার ঝড় বইছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সবশেষ মুনিয়ার ভাইকে দিয়ে এমপিপুত্র শারুনের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলার অপচেষ্টা হচ্ছে। যদিও ওই ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর তার দুই বোনের সম্পর্ক ছিল না, এমনকি মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। মূলত নিহত মুনিয়ার প্রেমিক আনভীরকে বাঁচাতে ও ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নতুন মামলার চেষ্টা বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। একই অভিযোগ করেছেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান।

অপর একটি সূত্র মতে, বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের প্রেমের নামে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে গুলশানে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পর বসুন্ধরা মালিক পরিবারের ১২ সদস্যের হঠাৎ দুবাই চলে যাওয়ার ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে।

মুনিয়াকে ‘হত্যার’ পর ভাড়া করা বিমানে আনভীরের পরিবারের একযোগে দেশত্যাগ পূর্ব পরিকল্পিত কি না তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ বিভিন্ন মহল থেকে এমন সন্দেহ করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, ২০০৬ সালের ৪ জুলাই গুলশানের একটি বাড়িতেই খুন হয়েছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক বহুল আলোচিত হুমায়ুন কবীর সাব্বির। সেই চাঞ্চল্য হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত থেকে খালাসের মাধ্যমে পার পেয়ে যান অভিযুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের পরিবারের সদস্যরা। মূলত এত বছরেও সাব্বির হত্যার বিচার হয়নি।

গেল বছরও বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের বাসায় একজন পুরুষ গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সেটির কারণও ধামাচাপা দেয়া হয়। মূলত টাকা, ক্ষমতার জোর ও বিচারহীন সংস্কৃতির কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বিতর্কিত আনভীরদের পরিবারের সদস্যরা একের পর এক অপকর্ম চালিয়েও পার পেয়ে যান। তাদের সবশেষ শিকার কলেজছাত্রী মুনিয়া।

নিরাপত্তা চেয়ে মুনিয়ার বোনের জিডি: মোসারাত জাহান মুনিয়া ‘আত্মহত্যা’ প্ররোচনা মামলার বাদী তার বড় বোন নুসরাত জাহান নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি মডেল থানায় নুসরাত জাহান বাদী হয়ে শনিবার এ জিডি (নম্বর-২৪) করেন।

এতে বলা হয়েছে, আমার ছোট বোন মুনিয়ার হত্যা সংক্রান্ত ঘটনার আলোকে আমি বাদী হয়ে গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বিরুদ্ধে মামলা করি। উক্ত ঘটনাটি প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ঘটনা হিসেবে চলমান রয়েছে। উক্ত বিষয়টি কেন্দ্র করে মামলা দায়েরের পর হতে বিবাদী পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে আমাকে ও আমার স্বামীসহ পরিবারবর্গের সদস্যদের মামলা প্রত্যাহার করে সমঝোতা করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

ওই জিডিতে আরো বলা হয়েছে, মামলা প্রত্যাহারসহ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সুরাহা না করলে টাকার বিনিময়ে আমাকে অথবা আমার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের যেকোনো উপায়ে বিপদে ফেলে অথবা যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে আমাদের খুন-জখম করে লাশ গুম করে ফেলতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেয়া ও নাজেহাল করবে বলে আশঙ্কা করছি। এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক হোসেন বলেন, আমরা জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

শারুনের বিরুদ্ধে মুনিয়ার ভাইয়ের মামলার আবেদন: গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে ওই তরুণীর ভাই আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন।

সূত্র জানায়, বাদী আশিকুর রহমান মামলার আবেদন করার পরে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বিচারক আদেশে বলেন, মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে’ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলাটি বর্তমানে তদন্তের মধ্যে রয়েছে। এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যা মামলার আবেদনটি স্থগিত থাকবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, মূলত বসুন্ধরা এমডি আনভীরকে রক্ষা ও মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে ধোঁয়াশায় ফেলতে বিশেষ মহল থেকে নিহতের ভাইকে মামলার জন্য চাপ ও আর্থিক প্রলোভন দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই মাস পর মিলবে ফরেনসিক রিপোর্ট: ফরেনসিক রিপোর্টেই উন্মোচিত হবে মুনিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসেরা, ডিএনএ ও মাইক্রোবায়োলজির পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই মাস।

এদিকে দোষীর সাজা নিশ্চিতে ফরেনসিক রিপোর্টই প্রধান হাতিয়ার বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। দ্রুত মুনিয়ার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে তৎপর হওয়ার তাগিদও তাদের। কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর কেটে গেছে ৫ দিন। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট এখনো হাতে পায়নি পুলিশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুনিয়াকে বিষ প্রয়োগ কিংবা ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা এমন বেশ কয়েকটি বিষয় পরীক্ষার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। যার জন্য প্রয়োজন ভিসেরা, ডিএনএ ও মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা, যা সময় সাপেক্ষ। এ কারণেই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেতে দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় সাপেক্ষ হলেও এসব পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে মৃত্যুর আসল কারণ।

ফের আলোচনায় সেই পিয়াসা: ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামি ছিলেন ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা। প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই পরে মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী। চার বছর পর ফের আলোচনায় এনটিভির সুপার হিরো, সুপার হিরোইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শোবিজ জগতে আসা সেই পিয়াসা।

গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের হয়েছে, তাতেও পিয়াসার নাম রয়েছে। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইফতারের সময় যে ছবি তুলে মুনিয়া ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন, সেই ছবি আনভীরের মাকে দেখান আলোচিত এই পিয়াসা।

মামলার তদন্তের স্বার্থে এই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আমরা সব তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় সম্পৃক্ত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রধান আসামি আনভীরসহ সন্দেহভাজনদের নজরদারির মধ্যে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনভীরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতি মাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে আনভীর মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো বসুন্ধরার এমডি। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো।

মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ফলে আত্মহত্যা নয়, মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।