৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ

আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মেহেদী হাসান রাব্বি, বরগুনা : বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে হেরে গেলেন গত দুই নির্বাচনে বিজয়ী ‘জনতার মেয়র’ শাহাদাত হোসেন। পাঁচ বছর আগে তার কাছে হারলেও এবার জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ

শাহাদাত হোসেন নিজেও আওয়ামী লীগ করেন। দলের সমর্থন না পেয়ে তিনি প্রার্থী হন স্বতন্ত্র হিসেবে। ভোটের মাঠে নিজের পরিচয় দেন জনতার মেয়র হিসেবে।

নৌকা নিয়ে মহারাজ পেয়েছেন নয় হাজার ২৯৭ ভোট। জগ প্রতীক শাহাদাত পেয়েছেন ছয় হাজার ৯০৩ ভোট। দুই হাজার ৩৯৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী।
২০১৫ সালেও এই দুই প্রার্থীর লড়াই হয়েছিল। সে বছরও মহারাজ পেয়েছিলেন নৌকা। আর দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড়ান শাহাদাত। ভোটের দিন ব্যাপক গোলযোগ হয়। হামলায় আহত হন মহারাজ। তবে জিততে পারেননি তিনি।

এবার ভোটের প্রচার চলাকালে পৌরসভায় নানা হাঙ্গামা-সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ। তবে ভোটের দিনের চিত্র ছিল পুরোপুরি বিপরীত। কোনো ধরনের গোলযোগ ছাড়াই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে রায় দিয়েছেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে দেখা গেছে লম্বা লাইন।

বিএনপির প্রার্থী আবদুল হালিম প্রচার চলাকালে আশা করেছিলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের লড়াইয়ের কারণে তিনি ভালো করবেন। তবে সেটা হয়নি। ৮৯৪ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হয়েছেন।
জেলার আরেক পৌরসভা পাথরঘাটাতেও জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

দলের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আকন ভোট পেয়েছেন ছয় হাজার ৬৭টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান খান পেয়েছেন দুই হাজার ২৩২ ভোট।

দুই জনের ভোটের ব্যবধান তিন হাজার ৮৩৫।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়া আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এক হাজার ৫০০ ভোট পেয়ে হয়েছে তৃতীয়।

এই পৌরসভায় বিএনপি চতুর্থ হয়েছে। দলের নেতা শাহাবুদ্দিন সাকু ভোট পেয়েছেন ৪২৫টি।

প্রচার চলাকালে বারবার সংঘর্ষ সহিংসতার ঘটনায় নাম এসেছিল পাথরঘাটায়। প্রচারের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুরকে প্রকাশ্যে কোপানো হয়। সেদিন আওয়ামী লীগ ও তার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

তবে ভোটের দিন কোনো ধরনের উত্তেজনাই দেখা যায়নি এলাকায়।

প্রতি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। মোতায়েন করা হয় সাতজন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১০ জন আনসার সদস্য।

নিয়োজিত ছিলেন র‌্যাব, বিজিবি সদস্যসহ পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যও। ভোট কেন্দ্র ব্যতীত দুটি পৌরসভাতেই তিনজন করে মোট ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার বলেন, ‘দুটি পৌরসভাতেই আমরা অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সফল হয়েছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগও করেননি কোন প্রার্থী।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।