১৩ই আগস্ট, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের পর…….. বরিশালে অর্থনীতির শিক্ষক ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক পদ থেকে বহিস্কার বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক! মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠায় রেণুর প্রেরণাঃ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন স্মরনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর : গ্রেফতার ৩ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল সদর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ চাল চুরির ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা উজিরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর ছাএের লাশ উদ্ধার বরিশালে নতুন করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার লাঙ্গল

আপডেট: জুলাই ২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সাব্বির আলম বাবুঃ
যুগে যুগে গ্রাম বাংলার কৃষি ও কৃষকের অন্তর জুড়ে তথা জীবনের সাথে ভালোভাবে মিশে আছে লাঙ্গল। সুপ্রাচীন কাল থেকে বাংলাদেশে লাঙ্গলের ব্যবহার চলে আসছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষের সম্পর্কের সেতু বন্ধন করেছে লাঙ্গল। আদিম যুগে বন্য মানব জীবনে লাঙ্গল আবিষ্কারের মাধ্যমেই পেয়েছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। এটি ব্যবহারের ফলে শস্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক তথা মানুষ পেয়েছিল বেঁচে থাকার সম্বল। কিন্তু বর্তমানে কালের পরিক্রমায় ডিজিটালের জোয়ারে আধুনিক প্রযুক্তির টিলার -টাক্টরের আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যের প্রতীক লাঙ্গল। হিন্দু পুরাণেও আছে লাঙ্গলের আলাদা মর্যাদা। সেখানে উল্লেক আছে, এক কালে রাজা জনকের রাজ্যে কৃষকের ক্ষেতে লাঙ্গলের ফলার সাথে উঠে এসেছিল পবিত্র রামায়ণ গ্রন্থের আলোচিত নায়িকা রামের স্ত্রী সীতা। যাকে কেন্দ্র করে লংকাপুরিতে ঘটেছিল বিখ্যাত রাম-রাবনের লড়াই। লাঙ্গল তৈরীর উপকরনের নামকরনও কিছুটা বৈচিত্রময়। কৃষক ইউনুস জানান, একটি জমি চাষের লাঙ্গল বানাতে বড়ই, কাঁঠাল, কড়ই ইত্যাদি গাছের কাঠ লাগে। পাশাপাশি গদ্দা, হাল, কাডা, বাদলাগারা, ঈশ, ঈশাতা প্রভৃতি উপকরনও প্রয়োজন হয়। প্রতিটি লাঙ্গল তৈরীতে সাধারণত ১৫০০-১৮০০ টাকা খরচ হয়। কৃষক যোতিন্দ্র জানান, একেকটি লাঙ্গলের ফলায় জড়িয়ে আছে কৃষক-কৃষানীর অনেক পরিশ্রম, ঘাম আর সুখ-দুঃখের অজানা কাহিনী। প্রতিদিন সকাল হলেই একজন প্রান্তিক কৃষক লাঙ্গল আর জোমাল কাঁধে নিয়ে চলে যায় চাষের জমিতে। যেকোন চাষ মৌসুম এলেই বেড়ে যায় কৃষকের ব্যস্ততা। কি বর্ষা, কি গৃষ্ম, কি শীত সব মৌসুমেই কৃষকরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তাদের অকৃত্রিম বন্ধু এই লাঙলের সাহায্যে আমাদের জন্য ফসল ফলায়। গড়ে তোলে সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা চীর সবুজ আমাদের এই বসুন্ধরা। তবে এখন আধুনিক প্রযুক্তির টাক্টর-টিলারের আধিপত্যে কৃষকের মাঠের কাজ অনেক কমে গেছে। স্বল্প খরচ আর দ্রুত সময়ে উন্নত প্রযুক্তির এই মেশিনে জমি চাষাবাদ করা যায় বিধায় কৃষক এখন লাঙ্গলের পরিবর্তে ডিজেল চালিত এ সকল যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছে। ফলে প্রাচীন কৃষি যন্ত্র লাঙ্গলের সাথে তাদের দুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে। আশংকা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে সুপ্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই লাঙ্গলের স্থান হবে জাদুঘরে।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।