৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রবিবার

বরিশালে লাশের মূল্য ১০ লাখ টাকা!

আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

*ভুল চিকিৎসায় যত মৃত্যু :
*ডাঃ রফিকুল বারীর প্রতারনা :
*একের পর এক রোগীর মৃত্যু :
পার পেয়ে যায় ম্যানেজে :

স্টাফ রিপোর্টার : ২৭ এপ্রিল বরিশালের রয়েল সিটি হাসপাতাল। একজন রোগী মারা যায় নাম মোসাম্মৎ সোনিয়া বেগম। বয়স ২৪ বছর। স্বামী সাইফুল ইসলাম। গ্রাম পশ্চিম বাজিতপুর। থানা ঝালকাঠি সদর। জেলা ঝালকাঠি। ২৮ এপ্রিল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে ঐ দিনই দাফন করা হয়। যে সোনিয়া হাটতে হাটতে রয়েল সিটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গেল আর বের হলো লাশ হয়ে।

সোনিয়ার লাশের মূল্য ১০ লাখ টাকা :

সোনিয়া গত ২৮ এপ্রিল ভুল অপারেশনে রয়েল সিটি হাসপাতালে প্রান হারায়। সোনিয়ার পিতা কালাম ২৯ এপ্রিল কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত মামলা দায়ের করে। তবে এফ আই আর হয়নি। সোনিয়ার মৃত্যুতে দায়ী ডাক্তারগন ইতিমধ্যে সমঝোতা করার জন্য সোনিয়ার আত্মিয় শহিদকে বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে সোনিয়ার পিতার হাতে দশ লাখ টাকা পৌছে দিয়েছেন বলে বিনয়কাঠীতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে শহিদের ০১৭২০…..১৯১ নম্বরে কল করা হলে কল কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার ফকিরহাট নামক স্থানে জামাতের সাবেক রোকন সদস্য ডাঃ রফিকুল বারীর মালিকানাধীন পিকনিক স্পট “নিঃসর্গ “তে বসে ম্যানেজের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন হয়। দশ লাখ টাকার মধ্য সোনিয়ার পিতা ৮ লাখ,প্রশাসনের জন্য ১ লাখ, শহিদ,বাবুলসহ ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় জড়িতরা ১ লাখ টাকা ভাগ ভাটোয়ারা হয়।

­

  • ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের :
    এফ আই আর হয়নি অদৃশ্য কারনে :

বরিশাল নগরীতে রয়েল সিটি হাসপাতালে অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত গৃহবধূ সোনিয়ার পিতা আবুল কালাম হাওলাদার বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে- রয়েল সিটি হাসপাতালের পরিচালক কাজী আফরোজা, তার স্বামী জামায়াতপন্থী চিকিৎসক শেবাচিম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিকুল বারী, গাইনী চিকিৎসক তানিয়া আফরোজ, তার স্বামী ডা. মনিরুল আহসান, ডাঃ সজিব, স্টাফ মিলন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সোনিয়ার পিতা কালাম হাওলাদার ২৮ এপ্রিল বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ৭ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন। অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ দু’বার লিখিত মামলা পাল্টালেও এখনও এফআইআর হিসেবে গ্রহন করেনি কোতয়ালী মডেল থানা। এফআইআর হিসেবে মামলা গ্রহন না করায় হতাশ হয় সোনিয়ার  পিতা।

মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন :

বরিশাল নগরীর রয়েল সিটি হাসপাতালে নিহত সোনিয়া বেগমের মৃত্যু ঘটনায় বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা:বাসুদেব কুমার দাস ২৯ এপ্রিল ঘটনা তদন্তে তিন বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান,তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হলে রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সোনিয়ার মৃত্যুর পরেও
১২ হাজার টাকার টেস্ট :

সোনিয়ার মৃত্যু জেনেও এই মহিলা রোগীকে ১২ হাজার টাকার টেস্ট করতে দিয়েছিল বরিশাল রয়েল সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। নগরীর শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানালো এ রোগী মারা গেছে অনেক আগেই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পরেন রোগীর স্বজনরা। ২৭ এপ্রিল সোনিয়ার মৃত দেহ নিয়ে স্বজনরা রয়েল সিটি হাসপাতালে গেলে মৃত্যু সোনিয়ার চাচাত ভাই বাবুলের হাত থেকে জোড়পুর্বক ফাইল নিয়ে কাগজ পত্র ছিড়ে ফেলে।

স্বজনরা যা বললেন : কে থামাবে আহাজারি?

নিহতের চাচাত ভাই বাবুল হাওলাদার জানান, সিজারিয়ান অপারেশনের বেশ কিছুদিন পর সোনিয়া পেটে ব্যাথা অনুভব করলে তাকে গাইনী ডাক্তার তানিয়া আফরোজের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন।
তার পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল পুনরায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। সোমবার সকাল ৮টায় অপারেশনের জন্য ফের সোনিয়াকে ওটিতে নেন ডাক্তার রফিকুল বারী ও মনিরুল আহসান এবং ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সোনিয়ার পেটে অস্ত্রপচার করেন ডা. তানিয়া ও তার স্বামী সার্জারি ডাক্তার মো. মনিরুল আহসান।
দুপুর ১টার সময় ডাক্তার রফিকুল বারী জানান, সোনিয়ার জ্ঞান ফিরছেনা। তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। স্বজনরা সোনিয়াকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় অনেক আগেই রোগী মারা গেছে।

সোনিয়ার মা রহিমা জানালেন, আমার মেটে হাটতে হাটতে কথা বলতে বলতে ওটিতে গেলো আর বের হল লাশ হয়ে। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে। তার আহাজারি চলছে এখনও। কে থামাবে রহিমার আহাজারি?

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু -১
“সোনিয়া ”
সোনিয়া বেগম গত মার্চ মাসে বরিশাল রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সিজার করে একটা বাচ্চা হয়। বাচ্চা হওয়ার পরে সিজারের রোগীর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়। তাই তারা পরবর্তীতে আবার গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডাক্তার দেখে বলেন হয়তো কাটা জায়গার ভিতরে কোন অপরিষ্কার রয়েছে যার জন্য এই ইনফেকশন হয়েছে। আবার অপারেশন করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার এ ভর্তি হওয়ার পরেও তারা কোন কিছু না করে ২৭ এপ্রিল সকাল আটটার সময় তাকে নিয়ে যায় অপারেশন করতে ওটিতে। রোগীর স্বজনদের ভাষ্য রোগী বেলা দুটার সময় মারা গেলে তারা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রোগী নিয়ে গেলে তারা মৃত বলে ঘোষণা করে। স্বজনরা বলে অপারেশন করার কথা ডাক্তার তানিয়া আফরোজ। কিন্তু তিনি না করে কেন তার স্বামী ডাক্তার মনিরুল আহসান ও কাজি আফরোজার স্বামি রফিকুল বারী
অপারেশন করেছেন। স্বজনরা বলে রোগীর মৃত্যু হওয়ার পরও ডাক্তার বলেছে যে রক্ত লাগবে তারা ৪ ব্যাগ রক্ত দিয়েছে। এই মৃত্যু সোনিয়া বেগমের এক মাসের একটা বাচ্চা রয়েছে।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু -২
“শেখ কবির উদ্দিন ”
রয়েল সিটি হাসপাতালে ডঃ রফিকুল বারীর ভুল চিকিৎসায় বৃদ্ধার মৃত্যু : পাচঁ লাখ টাকায় রফাদফা …….

বরিশালের এই রয়েল সিটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শেখ কবির উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে ২০১৮ সালের ২৬ জুন। ভুল অপারেশনে প্রান হারান তিনি।
অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে ওই রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় ৩০হাজার টাকা নেয় ডা:রফিকুল বারী।
২৬ জুন’১৮ তারিখ সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ডস্থ রয়েল সিটি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক রফিকুল বারী অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। মৃত শেখ কবির উদ্দিন নগরীর সিএন্ডবি রোড সংলগ্ন কাজী পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
কবির উদ্দিনের মেয়ে মুন্নী আক্তার, হীরা আক্তার ও ছেলে শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘প্রসাবের স্থানে সমস্যা ছিল আমার বাবার। ডাক্তারী ভাষায় এই সমস্যাকে প্রসপেক্ট গ্লান বলে। সেই অনুযায়ী তাকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসক রফিকুল বারী দুপুরে দেড়টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। হঠাৎ করে ডা: রফিকুল বারী অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়। এরপর থেকেই রফিকুল বারীকে আর হাসপাতালে দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর হাসাপাতালের ডিউটি চিকিৎসক তামিম আমাদের কাছে এসে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি জানায়। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলতে গেলে আমাদের উপর চরাও হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাচঁ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনা মিমাংশা করেন বলে মিমাংশায় জড়িত থাকা লোকজন জানান।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু -১
“কেরামত আলী ”
ডঃ রফিকুল বারীর ভুল চিকিৎসায়
কেরামত আলীর মৃত্যু :

২০১৪ সালের ২৬ জুলাই ডাঃ রফিকুল বারীর ভুল চিকিৎসায় বরিশাল নগরীর ডাঃমোকলেসুর রহমান হাসপাতালে কেরামত আলী নামক এক রোগী মৃত্যু হয় । এ ঘটনায় রফিকুল বারীকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১১টায় বরিশাল নগরীর সদররোডস্থ মোকলেছুর রহমান ক্লিনিকে অপারেশন চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত কেরামত আলী (৭০) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মৃত রোগীর স্বজনরা হত্যা বলে দাবি করে তখন।
কেরামত আলীর ছেলে সোহেল জানান, বেশ কিছু দিন ধরে তার বাবা পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। ওই সময় তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ইউরো সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল বারীর চেম্বারে। তিনি ওই রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ খেতে দেয়। দীর্ঘদিন ওই ওষুধ খেয়ে রোগী আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।
ছেলে সোহেল জানান, চিকিৎসক রোগীর পোস্টেট অপারেশন করতে হবে বলে স্বজনদের জানান। তার পরামর্শ অনুযায়ী ২২ হাজার চুক্তি করে রোগীকে গত ২৩ জুলাই মোকলেছুর রহমান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এর ৫ মিনিট পরই স্বজনরা শুনতে পারেন তাদের রোগী বেঁচে নেই।

সোহেল অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার কোনো হার্টের রোগ ছিল না হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাকির হোসেন এ কথা বলেছিলেন। কিন্তু এনেসথেশিয়ার চিকিৎসক ডাঃ আবির হোসেন ও ডাঃ রফিকুল বাড়ী ভুল চিকিৎসা করে আমার বাবাকে মেড়ে ফেলেছে।
সোহেল বলেন, আমি আরো সময় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে বাবাকে অপারেশন করানোর জন্য বললেও তারা তা শুনলোনা। তিনি এ বিষয়ে মামলা করবেন বলে সাংবদিকদের জানান।

এ ব্যপারে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার তৎকালীন এসি মাহামুদ জানিয়েছিলেন, প্রথমিকভাবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা. রফিকুল বারীকে আটক করা হয়।

ক্লিনিকটির মালিক ডা: মোখলেসুর রহমান বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হওয়ায় ক্ষমতা দেখিয়ে ও মৃত কেরামত আলীর স্বজনদের ম্যানেজ করেছিলেন তখনকার সময়ে।


ডাঃ রফিকুল বারীর প্রতারনা :

২০১৭ সালের ২৪ মার্চ অন্ডকোষহীন এক শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ডকোষ সংযুক্ত করে দিবেন এমন প্রলোভন দেখিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করেন দেড় বছরের শিশু বেল্লালের পিতা ভান্ডারিয়ার বাসিন্দা সরোয়ার খানের কাছ থেকে। এ ঘটনায় একপর্যায়ে টাকা ফেরৎ দেন রফিকুল বারি।

একের পর এক রোগীর মৃত্যু :
পার পেয়ে যায় ম্যানেজে :

ম্যানেজ প্রক্রিয়ার বদৌলাতে রক্ষা পান ডাঃ রফিকুল বারী। স্থানীয় ভাবে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সু-চিকিৎসার চেয়ে অপ-চিকিৎসা আর প্রতারণা করে অল্পতেই বিশাল বিত্ত-বিভৈবের মালিক হয়েছেন ডাঃ রফিকুল বারি। একের পর এক রোগী ডাঃ বারীর কাছে মৃত্যু বরন করলেও সব সময়ই পার পেয়ে যান তিনি। জামাতের সাবেক এই রোকন সদস্য ডাঃ বারী ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় এক নম্বর বলে জানান ভুক্তভোগীরা।


গাইনী চিকিৎসক তানিয়া আফরোজের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু :

বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ও উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানিয়া আফরোজ এর অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবী করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন নবজাতকের বাবা সিএন্ডবি ১ নংপুলের বাসিন্দা টিআইবি কর্মী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তার অভিযোগে বলেন, তার স্ত্রী কামরুন নাহার লিজা ডা. তানিয়া আফরোজ এর একজন রোগী। তানিয়ার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ডা: তানিয়া আফরোজের
ভুল অপারেশনের শিকার গৃহবধু :

নগরীর স্ব-রোডের বাসিন্দা লিলি বেগম নামে এক প্রসুতি নারী সিজারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২০১৭ সালের ২৮ই আগষ্ট সকালে ডা: তানিয়া আফরোজ প্রসুতি রোগী লিলি বেগমের সিজার অপারেশন করলে রোগির একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু সিজার অপারেশন শেষে রোগির সিজার করা স্থানে কোন রকম পরিষ্কার না করেই ঐ স্থানে রক্তসহ শেলাই করে দেয় ডাক্তার তানিয়া আফরোজ। অসুস্থ্য রোগী লিলি বেগমের স্বামী তিনি জানান সিজারের দুইদিন পরেই লিলি বেগমের সিজারের ঐ স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা শুরু করে পরে ডা: তানিয়া রোগীর অবস্থা বেগতিক জানালে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ খাওয়ার কথা বলেন কিন্তু এতেও রোগীর কোন ভালো ফলাফল মেলেনি গত ৭ই সেপ্টেম্বর বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতাল থেকে অসুস্থ্য রোগী লিলি বেগমকে তার পরিবারেরা ডা: আরিফ মেমোরিয়াল হসপিটালে ভর্তি করেন। গত ০৯ই সেপ্টেম্বর ডা: মো: নজরুল ইসলাম অসুস্থ্য রোগী লিলি বেগমের সিজার করা ঐ স্থানে অপারেশন করে ডা: তানিয়া আফরোজের ভূল চিকিৎসার কারনে জমে থাকা পয়জন বের করলে রোগী কিছুটা সুস্থ্য হয়। উক্ত বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র -পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে গোমর ফাঁস শুরু হয় ডা: তানিয়া আফরোজের।

রয়েল সিটি হাসপাতালে সোনিয়ার মত প্রান হারাচ্ছে অসংখ্যজন। এ অপমৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? এ প্রশ্ন সকলের।

রয়েল সিটি হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য :

রয়েল সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আফরোজা দাবি করেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। রোগী ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা যা দেবার তারাই দিয়েছে।ডাক্তারদের ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। কাজি আফরোজা সম্পাদিত বিডি বুলেটিনেও এমনটাই দাবী করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। শিরোনাম ছিল “বরিশালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু “

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।