২রা জুন, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ পিছু ছাড়ছেনা কেলেংকারী :শিক্ষকরা জড়িয়ে পড়ছে হত্যা মাদক বিক্রিসহ অনৈতিক কর্মকান্ডে

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার :বরিশালের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছিল বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। অল্প দিনেই সুনাম ছড়িয়েছিল বিভাগ জুড়ে। একের পর এক কেলেংকারীতে স্কুলটির সুনাম আজ শুন্যের কোঠায়। প্রতিনিয়ত পত্র -পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকরা যেমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন তাতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত নিয়ে সংকিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক একজন নারী হত্যার ঘটনার সন্দেহ জনক আসামী হিসেবে জেল খেটে কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। ঐ শিক্ষক এখন সাময়িক বরখাস্ত।

শিক্ষকরা তিন গ্রুপে বিভক্ত :
স্কুলটিতে এখন কোন লেখা পড়া নেই। শিক্ষকরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিক্ষক আবু মামুন । এ গ্রুপে রয়েছেন মাজেদা, হুমায়ুন কবির,মাসুম বিল্লাহ,সিরাজুল ইসলাম মোস্তফা কামাল,ওয়াহিদুজ্জামান,মাজহারুল ইসলাম,রাজিব হুমায়ুন,পলাশ কুমার,রনজিৎ সাহা,শিখা রানী ও অনামিকা।
দ্বিতীয় গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এস এম মাইনুদ্দিন, এ গ্রুপে রয়েছেন অলোক কুমার সরকার,এম সাজ্জাতুল ইসলাম, মোঃ জাহাদ হোসেন (যুক্তিবিদ্যা) ,মোঃ জাহিদুল ইসলাম (ইংরেজী) ,মুহাম্মদ রেজাউল করিম খান,কাজী আসিফ মাহমুদ হোসেন,এইচ এম শাহজালাল,সুশান্ত অধিকারী,ফারজানা আক্কার ঝুমা,অসীমা বেপারী,মোঃ শাজাহান ও অরিন্দম চৌধুরী।
তৃতীয় গ্রুপ স্বপন কুমার চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গৌরী প্রসাদ রায়,নুর উদ্দিন সমীর কুমার বিশ্বাষ ও মোহিব্বুল্লাহ মুহিব।

তৃমুখী গ্রুপিংয়ের ফলে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। কেউ শুনেনা কারো কথা। শিক্ষরা ক্ষমতার দ্বন্ধে জড়ানোর ফলে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার পরিবেশ নেই।অর্থ আত্মসাৎ, কোচিং বানিজ্য,ক্ষমতা আর স্বেচ্ছাচারিতা ও চরম গ্রুপিংয়ের কারনে প্রায়ই হট্টোগোল হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।

অধ্যক্ষ আছেন ঢাকা :
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্টেশন লিভ দেয়ায় ও তিনি একটি গ্রুপকে বেশী পছন্দ করায় তার আদেশ কেউ মানছেন না। অধ্যক্ষ মাসের অর্ধ সময় ঢাকা থাকেন। করোনার এই দুঃসময়েও তিনি বরিশালে নেই। ঢাকায় থাকার কারনে গত ১০ এপ্রিল বেতন দেয়া হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফল ফলাদী অধ্যক্ষ বিগত দিনের রেওয়াজ ভেঙ্গে বস্তা ভরে নিয়ে যান ঢাকাতে বলে অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
এদিকে অধ্যক্ষ হাজার হাজার টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন টেন্ডার ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ঘোষনার ফলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ব্যয়ের জন্য শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন না নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির সংস্করন কাজসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলেন অধ্যক্ষ আইন -কানুন ও নির্দেশনা মানছেন না। কলেজ ফান্ডের টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে বর্তমানে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন -ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে করোনার এই দুর্যোগে গুরুত্বপুর্ন এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছে। শিক্ষার্থীদের এই মহামারি দুর্যোগে কোন নির্দেশনা না দেয়ায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বছরে বন্ধ থাকে ২৪৫ দিন :
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন,বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের আগের সুনাম এখন আর নেই। তারা বলেন শিক্ষকদের দ্বন্ধ,অধ্যক্ষকে ম্যানেজ করে আরবি শিক্ষকরা অংক ও ইংরেজী পড়ান। এসব কারনেই আজ এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম নেই। এছাড়া পিএস সি,জে এসসি,এস এসসি,এইচ এসসিসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার কারনে বছরে ১০০ দিন,একাডেমিক ৮৫ দিন,শুক্রবার ৫২ দিন এবং স্পোর্টসে ২দিন , কালচারাল প্রোগ্রামে ২ দিন ও প্রাস্টিসের কারনে ৪ দিন ক্লাশ বন্ধসহ মোট ২৪৫ দিন বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ বন্ধ থাকে। এসব কারনে ক্লাস বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছে।

কোচিং বানিজ্য রমরমা :
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের কোন শিক্ষার্থী যদি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে কোচিং না পড়েন তাহলে সেসব শিক্ষার্থীদের পরিক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ রয়েছেে অনেক। বরিশালে একটি মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যান্তরে কোচিং পড়ানো হয় এক্সট্রা ক্লাশের নামে। অথচ প্রতি সাবজেক্ট বাবদ শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হয় পাচঁ শত টাকা করে। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য বন্ধ নীতিমালা ২০১২ গেজেট আকারে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারী প্রকাশিত হয়েছে। গেজেটের অনুচ্ছেদ ১ এর “চ”তে উল্লেখ রয়েছে স্পষ্ট ভাবে যে,কোচিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্য্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকের নির্ধারিত ক্লাশের বাইরে বা এর পুর্বে অথবা পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যান্তরে /বাইরে কোনো স্থানে পাঠদান করাকে কোচিং বোঝাবে। অনুচ্ছেদ ১ এর ২নং ক্রসিকের (ক) তে উল্লেখ রয়েছে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের পুর্বে বা পরে শুধুমাত্র অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাশের ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবেন। (খ) তে উল্লেখ রয়েছে প্রতি বিষয়ে মেট্রোপলিটন শহরে সর্বোচ্চ তিনশত টাকা,জেলা শহরে দুইশত টাকা ও উপজেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে দেড়শত টাকা রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ক্লাশ পরিচালনার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফি আকারে গ্রহন করা যাবে। যা সর্বোচ্চ ১২০০ টাকার অধিক হবেনা।
সরকারি গেজেট অমান্য করে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে এক্সট্রা ক্লাশের নামে কোচিং পড়ানো হচ্ছে প্রতি বিষয়ে পাচঁ শত টাকা নিয়ে। এ টাকা সরাসরি নেয়া হয় কোন রশিদ ছাড়াই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোচিংয়ে জড়িত এক শিক্ষক জানান, আমরা অধ্যক্ষ স্যারকে শতকরা ১৫ থেকে ১৬ পার্সেন্ট টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যান্তরে কোচিং পড়াই শিক্ষার্থীদের।
নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরিশালে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। সরকারি বিদ্যালয়গুলো এর বাইরে নয়, নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে চলছে অতিরিক্ত আয়।

কোচিং এ আসা বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানায়,বিদ্যালয়ের ক্লাসে তেমন লেখাপড়া না হওয়ার কারণে কোচিং করছেন তারা। আবার অনেকে বলছে বিদ্যালয়ে নির্ধারিত ক্লাসে বুঝে ওঠার আগেই ঘণ্টা বেজে যায়। শিক্ষকরা না বুঝানোর কারণে কোচিং এ এসে তারা সেই শিক্ষকের কাছেই পুনরায় বেশি করে তা বুঝে নেয়।
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, তারা স্কুলের ভেতরে সকালে ও বিকালে কোচিং ক্লাস করে। কোচিং পড়া অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুল চলাকালীন ক্লাসে স্যাররা আজে বাজে কথা বলে সময় পার করে । নির্ধারিত সময় পার হতে না হতেই ঘণ্টা পড়ে যায় এবং পরবর্তী অন্য বিষয়ের ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু কোচিং ক্লাসে স্যারেরা এক ঘণ্টা সময় দেন।
একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলের তুলনায় কোচিংয়ে ভালো লেখাপড়া হয়। স্কুলে ভালো লেখাপড়া হয় না। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময়ের অভাবে সেভাবে ক্লাস নিতে পারে না, তবে কোচিং এ সময় দেন শিক্ষকরা। আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্যাররা প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি বিষয় মাসে ৫০০ টাকা নেন।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অভ্যান্তরের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর দৃশ্য দেখা গেলেও এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তারা বলেন অতিরিক্ত ক্লাশ (কোচিং) বন্ধ রাখার সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা তাদের জানা নেই। সরকারি কোনো নোটিশ তারা পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অবিভাবক জানান, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ নামে মডেল। এখানে কোন লেখাপড়া নেই। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের তিনটি গ্রুপ। সারাদিন গ্রুপিং নিয়ে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকে। এছাড়া বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্য পি এস সি,জেএসসি,এস এস সি, এইচ এসসি পরীক্ষা হয় এখানে ফলে পরিক্ষাজনিত কারনে বন্ধ থাকে প্রায় চার মাস। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি অনুষ্ঠানের কারনেও বন্ধ থাকে এ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে এখানে লেখাপড়া তেমন হচ্ছে না, শিক্ষকরাও ঠিকমতো মনোযোগ সহকারে বাচ্চাদের ক্লাস নিচ্ছেন না। শিক্ষকরা নিজেরাই ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিংমুখী করে তুলছেন। স্কুলের ক্লাস শিক্ষকের কাছে কোচিং না করালে পরীক্ষার ফলাফলে বাচ্চাদের নম্বর কম দেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশির ভাগ অবিভাবক তাদের সন্তানদের কোচিং এ পড়াচ্ছেন। এখানের শিক্ষকদের আচরণ এখন আর প্রকৃত শিক্ষকদের মতো নেই। বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করা বেশির ভাগ শিক্ষক এখন কোচিং ব্যবসা খুলে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির অভ্যান্তরেই। যেখানে বেতন বাদ দিয়েও শিক্ষকরা প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় করছেন। এ বিষয়ে কোনো অবিভাবক প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ভিন্ন চোখে দেখেন শিক্ষকরা। তাই অবিলম্বে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে কোচিং বন্ধ করা উচিত।
এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন বাসা বাড়িতে শিক্ষকদের কোচিং বন্ধের জন্য লিখিত আকারে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে কোচিং বানিজ্য বন্ধ নীতিমালা ২০১২তে বলা হয়, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্যদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকার পরিচালনা পর্যদ ভেঙে দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি ও অধিভুক্তি বাতিল করতে পারবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারি বিধিমালার অধীনে অসদাচরণ হিসাবে গন্য করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষক যখন মাদকসহ আটক :
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক(চারু-কারু) মাদকসহ বেনাপোলে আটক।
করোনা সংক্রমণ রোধে মোড়ে মোড়ে বিজিবির বসানো কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ ফেন্সিডিলের চালান পাচারের সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৮২ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও একটি মোটরসাইকেল সহ বরিশাল সরকারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম সুমন (৪৪) কে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ।
২০ এপ্রিল’২০ সোমবার বেলা ১২টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার শিকড়ী বটতলা থেকে তাকে আটক করে বেনাপোল বিজিবি কোম্পানী সদরের সদস্যরা ।
আটক নজরুল বরিশালের সদর উপজেলার মকবুল আহমেদের ছেলে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ সেলিম রেজা জানান, একটি ফেন্সিডিল পাচার চক্র বরিশাল থেকে বেনাপোলে এসে ফেন্সিডিল নিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

শিক্ষের ডাস্টারের আঘাতে ছাত্র রক্তাক্ত :
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাশ চলাকালে ডাস্টার ছুড়ে মো. নাহিয়ান ইসলাম নিলয় (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত করেছেন শিক্ষক। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি’১৮) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলা দ্বিতীয়পত্র ক্লাশে এই ঘটনা ঘটান শিক্ষক অরুন কান্তি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস :
শিক্ষা প্রসারের মহতী লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর অধীনে ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা মহানগরী সহ দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরে ১১টি মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ঐ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাঝে ঢাকা মহানগরীতে ৫টি, বাকী ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং বগুড়াতে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির এক সভায় প্রকল্পটি গৃহীত হয় ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীতে ৪ টি (মোহাম্মদপুরে ১টি, মিরপুরের রূপনগরে ১টি, শ্যমপুরে ১টি, লালবাগে ১টি) এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনায় ১টি করে মোট ৯টি মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাকি দু’টি প্রতিষ্ঠান (ঢাকা ও বগুড়ায়) বর্তমানে বিয়াম ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।২০০৭ সালে বরিশাল শহরের রাজাবাহাদুর সড়কের পাশে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রফেসর নুরুল আমিন ১৫ এপ্রিল ২০০৭ এ প্রতিষ্ঠানটির প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়া হয় ও ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভর্তির ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য ষষ্ঠ – দশম শ্রেনীর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে তৃতীয় শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান চলছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ১২টি কলেজের মধ্যে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজটিকেও সরকারি করন করা হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১২টি কলেজকে সরকারি করন করা হয়।যার মধ্যে বরিশাল বিভাগে শুধুমাত্র বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজকে সরকারি করন করা হয়।

এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানা গেছে অধ্যক্ষ বর্তমানে ঢাকা রয়েছেন। কলেজের টেলিফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেন নি।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।