১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

বেতাগীতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতাবঞ্চিত ২২৮ হতদরিদ্র

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলায় ২২৮ জন দরিদ্র উপকারভোগী মা মাতৃত্বকালীন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নারীদের বিভিন্ন ট্রেডে ভর্তি ও প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিদপ্তর থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানাগেছে, অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচির আওতায়  ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এ উপজেলায় ৪২৫ জন উপকারভোগীর ভাতা বরাদ্দ ছিল, কিš‘ ডাটা এন্ট্রি না করায় ২২৮ জন উপকারভোগী এ মাতৃত্বভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।  এতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক (সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি) বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে।

এ দিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের ভর্তি ও প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণাথীদের ভাতা প্রদানে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে বিভিন্ন ট্রেডে ৩ মাস মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষনের জন্য দর্জি বিজ্ঞান ট্্েরডে ৩০ জন, বøক বাটিক ট্রেডে ২৫ জন এবং পার্লার ট্রেডে ২৫ জনসহ প্রতি ব্যাচে ৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গ্রামীন নারী জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। একটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ওই প্রশিক্ষণার্থীকে অন্য একটি ট্রেডে আবার ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত করা প্রশিক্ষনার্থীকে একই ট্রেড বা অন্য ট্রেডে ভর্তি করা নিয়ম নেই।

সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে পার্লার ট্রেডে থাকা আসমা বেগমকে দর্জি বিজ্ঞানে, বøক বাটিক থেকে সাথী আক্তার ও মাকসুদা বেগমকে  পার্লারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আসমা বেগম বলেন,‘নিয়মের আলোকেই আমাদেরকে প্রশিক্ষনের জন্য ভর্তি করানো হয়েছে।’ ওই একই কথা সাথী ও মাকসুদা বলেন,‘প্রশিক্ষনের নিয়ম মোতাবেক ভর্তি করানো হয়েছে।’

তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের ৬ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। ভাতা প্রদানের মাস্টার রোলে স্বাক্ষর না নিয়ে শুধু ১০ টাকা মূল্যের রেভিনিউ এর উপর স্বাক্ষর রেখে টাকা প্রদান দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনি”ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, কোন প্রশিক্ষনার্থীকেই পুরো টাকা দেয়া হয়নি। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কর্তন করা হয়েছে।’ নাম না প্রকাশের শর্তে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারী একাধিক প্রশিক্ষনার্থী অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়ে নিয়মিত কাজ শিখতে আসে না। শুধু ভাতা নেওয়ার সময়ে এসে কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে হাজিরা নিশ্চিত করে ভাতা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনুর বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  সরকারি নিয়মের বাহিরে কোন  কাজ করা হয়না।

 

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।