১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, শনিবার

বেতাগীতে মোকামিয়া দরবারে মধ্যযুগীয় কায়দায় পীরের হাতে নির্যাতনের শিকার বাবুর্চি

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া দরবার শরীফ ও ইয়াতিমখানার মানতের ছাগল পীর সাহেবকে না দেওয়ায় বাবুর্চিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে। আহত বাবুর্চি আব্দুল করিম বিচার চেয়ে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যর গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় মোকমিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

জানা গেছে, মোকামিয়া দরবার শরীফ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানায় জনৈক ভক্ত মানতের একটি ছাগল প্রদান করেন। ইয়াতিমখানার পীর সাহেব শাহ মো. মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসকে না দিয়ে বিক্রি করে ওই টাকা দিয়ে ইয়াতিমখানার জন্য চাল ডাল ক্রয় করেন।

ছাগল না পেয়ে দরবার শরীফের গদ্দীনশীল পীর ও মোকামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহ মো. মাহমুদুল হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ অক্টোবর দুপুর দেড়টায় ইয়াতিমখানার বাবুর্চি আব্দুল করিমকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন। বাবুর্চিকে পীর সাহেব তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে বসিয়ে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটায়।

এতে বাবুর্চি মারাত্মকভাবে আহত হয়। ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ করলে মেরে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। আহত বাবুর্চি স্থানীয় চিকিৎসকদের নিকট চিকিৎসা নেয়।

ইয়াতিমখানার আগত মানতের মোড়গ, ছাগল ও গরু পীরসাহেবের বাসায় দেওয়ার রেওয়াজটা অন্যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

বাবুর্চিকে র্নিমমভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় বিচার চেয়ে গত ৮ অক্টোবর সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বরাবরে আবেদন করেন। আবেদন পাওয়ার পর ওই দিনই রাত সাড়ে ৮টায় মোকামিয়া ইউনিয়ন কার্যালয়ে এমপি রিমন মোকামিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান, বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঢালী, যুগান্তর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ইরান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বিএমআদনান খালিদ মিথুন। এমপি রিমন বলেন,‘ বাবুর্চিকে পিটানোর ঘটনায় আমি নিন্দা জানাচ্ছি। একজন পীরসাহেবের পক্ষে এমন জগন্য কাজ করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে। ’ তিনি আরো বলেন,‘ সকলের সহযোগিতা পেলে এ দরবার ও মাদ্রাসার দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।

এ বিষয় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন ,‘দরবারের টাকায় পীরসাহেব আলিসান বাড়ি বানিয়ে জীবন-যাপন করছেন। পীর সাহেব সবসময় ব্যাক্তিগত আরাম আয়েশে ব্যস্ত থাকেন। অথচ মাদ্রাসার কোন খোঁজ খবর নেন না। দরবারের মসজিদটি আজো জরাজীর্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত পীরসাহবে শাহ মো: মাহমুুদুল হাসান ফেরদৌস মুঠোফোনে বলনে, আমার মুরীদরে সাথে অামার বিষয়ে অসৌজন্যমুলক মন্তব্য করায় তাকে জজ্ঞিাসা করেছি এবং ধমক দিয়েছি আমি তাকে মারব করনি।

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।