১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, শনিবার

সাংবাদিক সম্মেলন করে চিকিৎসকদের ৭২ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার আল্টিমেটাম

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রানা,পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মশিউর রহমানকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি এবং তার কাজীপাড়াস্থ প্রাইভেট চেম্বার সেন্ট্রাল হসপিটাল হামলাও ভাংচুর ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের ডাক্তার, স্টাফসহ বিএমএ, জেলা ডায়াগনোস্টিক ও ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশন এবং জেলা কেমিস্ট ড্রাগিস্টের ডাক্তার. নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করার ১০দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এজাহার হিসাবে গ্রহন না করা এবং কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর হইতে ৭২ ঘন্টা পটুয়াখালী জেলার সকল বে-সরকারী চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার কর্মসূচী পালন করার হুমকি দিয়ে চিকিৎসক ও ডায়াগনোষ্টিক ও ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকাল ৪টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে জনাকীর্ন সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন জেলা ডায়াগনোষ্টিক ও ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বিশিস্ট চিকিৎসক ডাঃ মনির হোসেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮.৩০ মিঃ সময় শাকির হোসেন (৪০) সারাপেটে ব্যাথা নিয়ে সেন্ট্রাল হসপিটালে ডাঃ মশিউর রহমানের কাছে হাজির হয়। চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিস্ট পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ফোন দিয়ে হাসপাতালের ডাক্তার ও সেবিকাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। রাত ৮.৪৫ মিঃ শাকির হাসপাতালে ভর্তিহন এবং চিকিৎসকের প্রদত্ত চিকিৎসা অনুযায়ী চিকিৎসা শুরুর পর রাত ১০.১০ মিঃ সময় ৩/৪জন সন্ত্রাসী যুবক সেন্ট্রাল হসপিটালে ঢুকে ডাঃ মশিউর রহমানকে তাদের সাথে যেতে বলে।

এ সময় মুমূর্ষ রোগী আছে বললে সন্ত্রাসীরা উত্তেজিত হয়ে গালাগাল করে চলে যায়। পরে মুমূর্ষ রোগী দেখে ডাঃ মশিউর রহমান দ্রæত মোটর সাইকেলে হাসপাতালে শাকির হোসেনকে দেখতে যায় এবং সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে কিনা তদারকি করেন এবং একটি কেবিনের ব্যবস্থা করে দেন। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীরা আরও কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রাত ১০.৫৫ মিঃ সময় দেশীয় তৈরী অস্ত্র সশÍ্র নিয়ে সেন্ট্রাল হসপিটালে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং কর্মরত স্টাফদের মারধর করে এবং ডাঃ মশিউর রহমানকে খোঁজতে থাকে আর হত্যা করবে বলে হাক-ডাক দিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে হসপিটালের মূল্যবান মালামাল ও যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। এতে হসপিটালে অবস্থানরত রোগী ও রোগীর স্বজনা ভীত সন্ত্রস্থ হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিচার দাবীতে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাত করে সদর থানায় একটি অভিযোগপত্র পেশ করা হয়। কিন্তু ঘটনার ১০দিনের থানা পুলিশ অভিযোগটি এজাহারভুক্ত না করে অজ্ঞাতকারনে নিরব ভ‚মিকা পালন করে আসছে। এতে চিকিৎসকগন সহ ক্লিনিক সমূহের স্টাফরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। তাদের বক্তব্য আমাদের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা না থাকলে কিভাবে আমরা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আবুল হাসান, বিএমএ এর সভাপতি ডাঃ মিজানুর রহমান, সাধারন সম্পাদক সাবেক মেয়র ডাঃ শফিকুল ইসলাম, ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ডাঃ সিদ্ধার্থ শংকর দাস, ডাঃ মশিউর রহমান, ডাঃ জিয়াউল করিম, ডাঃ জাকিয়া সুলতানা, ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার, ডাঃ অহিদুজ্জামান, জেলা ডায়াগনোস্টিক ও ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ জগন্নাথ পাল, জেলা কেমিস্ট ড্রাগিস্টের সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ, সাধারন সম্পাদক গাজী শহীদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তা নাহলে ২২ সেপ্টেম্বর হইতে পটুয়াখালী জেলার সকল বে-সরকারী চিকিৎসা সেবা ৭২ ঘন্টা বন্ধ রাখার কর্মসূচী পালন করা হবে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি না হইলে লাগাতার বন্ধ কর্মসূচী পালন করা হবে বলে ডাক্তারবৃন্দ ঘোষনা করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।