১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

পটুয়াখালীতে অপহরন, ধর্মান্তরিত, সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রানা,পটুয়াখালী ঃ পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ঠাকুরের হাট এলাকায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে সংখ্যালঘু ক্ষিতিশ চন্দ্র মজুমদারের বসত ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপরি কুপিয়ে ও মারধর করে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১০জনকে জখম করে বসতঘর ভাংচুর এবং মালামাল লুটপাটসহ বিভিন্ন স্থানে নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরন ও ধর্মান্তরিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্ট্রান ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার সকাল ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে দেড় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালনকালে বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্ট্রান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট তারক চন্দ্র সাহা, জেলা কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য তপন কুমার কর্মকার, জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার দাস, ঠাকুর হাট নৃশংস নির্যাতনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী বেতাগী সানকিপুর ইউপি সদস্যা মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী পশারী রানী, জেলা মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট বিভা রানী, সদর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমার চত্রবর্তী, সাধারন সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র দাস, পৌর কমিটির সাধারন সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার, আমখলার কমল দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ক্ষিতিশ চন্দ্র মজুমদার ৪০ বছর পূর্ব থেকে তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ঠাকুরের হাটে ১০ শতাংশ জমিতে বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ভোগ দখল করে আসছিল। ২৫ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভূমি দস্যু দুর্বৃত্ত জহিরুল ইসলাম সিকদার (৩২), ইরাক প্যাদা(৩০), বায়জীদ প্যাদা(২৫), কালাম প্যাদা (৫৫), রূপচাঁন প্যাদা(২২), জাহিদুল ইসলাম (২৭), আলম মৃধা(২৮), মামুন মৃধা(৩২), মাহাবুল সরদার(৫৫), জামাল সরদার (৫০) সহ অজ্ঞাত আরও ১৫/২০জন সন্ত্রাসী দেশী তৈরী ধাড়ালো অস্ত্র রাম দা, বগি দা, চাপাতি, কুড়াল, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ক্ষিতিশ চন্দ্র মজুমদারের বসত ভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।

এ সময় ক্ষিতিশ মজুমদার বাঁধা দিলে দুর্বত্তরা তাদের উপড় বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে চার বছরের শিশু কথা রানী এবং চার মাসের অন্তঃস্বত্বা অনঞ্জুরানীকেসহ ১০জনকে গুরুতর জখম করেছে। দুর্বত্তরা বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে মালামাল লুটকরে নিয়ে গেছে। বক্তারা বলেন, দুর্বৃত্তরা আহতদের চিকিৎসায় বাঁধা দিয়ে অমানবিক কান্ড করেছে। বক্তারা আরও বলেন লোহালিয়া ইউনিয়নের ৮ বছরের অবুঝ শিশু লিটন শীলকে অপহরন করে নিয়ে ধর্মান্তরিত করেছে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে সেভ হোমে পাঠালেও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করেনি।

মানববন্ধনে আমখলার কমল দাস অভিযোগ করে বলেন, তার বোন এসএসসি পরীক্ষার্থী রিপা রানীকে অপহরন করে ধর্মান্তরিত করে ধর্ষন করা হয়েছে। মামলা হয়েছে কিন্তু বিচার পাই নাই।
ঠাকুর হাটের ঘটনায়, ক্ষিতিশ চন্দ্র মজুমদারের ছোট ভাই যতিন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে জহিরুল ইসলাম সিকদারকে সহ ১০জনকে চিহ্নিত করে দশমিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্ট্রান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন এবং ক্ষিতিশ চন্দ্র মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবী করেন।

Print Friendly, PDF & Email
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল খবর ২৪ প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।