,
প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

গলাচিপায় আশ্রায়ন কেন্দ্রের ঘরগুলো জরাজীর্ণ \ বসবাসের অনুপযোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ঃ নিস্তব্দ রজনী। বাইরে শেয়াল কুকুর চিৎকার করছে। পানিতে শরীর ও বিছানা ভিজে গেছে। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ওদের ক্লান্তির ঘুম। হঠাৎ ঘুম থেকে ওরা জেগে উঠে মশারী খুলে বাতি জ্বালিয়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে সেগুলো পানি পড়ার স্থানে রাখল যাতে বিছানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে না যায়। এভাবে ওরা নির্ঘুম বসে রইল বিছানার পাশে প্রায় ঘন্টা খানেক। এটা বৃষ্টির পানি। প্রতিনিয়ত ঘরের টিনের চালের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঘরের ভিতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। বৃষ্টি থামার পরে ওরা আবার ঘুমাল। একঘন্টা যেতে না যেতেই আবার বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। ঘুম থেকে উঠে ওরা পুনরায় জেগে রইল। এভাবেই প্রতিরাতে ওরা নির্ঘুম রাত কাটায়। ভোর হলেই ওদের যেতে হয় দিন মজুরের কাজে। এভাবেই অতিকষ্টে ওরা জীবন যাপন করছে।

এমনটাই চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ফুলখালী আশ্রায়ন কেন্দ্রে। ১৯৯৭ সাল থেকে সরকার পর্যায়ক্রমে এ উপকূলীয় অঞ্চলে আশ্রায়ন কেন্দ্র নির্মান করেন। ২০০১ সালে সরকার ফুলখালী আশ্রায়ন কেন্দ্রের এ ঘরগুলো ভূমিহীন পরিবারদেরকে বরাদ্ধ দেয়। ফুলখালী আশ্রায়ন কেন্দ্রটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবুও সেখানে বসবাস করছেন অসহায় হতদরিদ্র ভূমিহীন লোকেরা। অর্থের অভাবে নিজেদের উদ্যোগে ঘরগুলো সংস্কার করতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন তারা। এ কেন্দ্রে ৪০টি পরিবারের দু’শতাধিক লোক বসবাস করছেন। এ ঘরগুলো সংস্কার না হওয়ায় চালের টিন, নাট-স্ক্রু, লোহার উপকরণ ও সিমেন্টের পিলার খসে পড়ে ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বসবাসের অনুপযোগী এসব ঘরে এখন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর।

সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় ঘরের মেঝেতে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে বছরের পর বছর তারা সেখানে জীবন যাপন করে আসছেন। সরকারিভাবে এ ঘরগুলো সংস্কার করা একান্ত জরুরী। ঘরগুলো সংস্কার করা না হলে আশ্রায়নের বাসিন্দাদের কষ্টের সীমা থাকবে না। ভূমিহীন এসব পরিবারগুলো খেটে খাওয়া মানুষ। ওরা দিন আনে দিন খায়। ওরা একটু আশ্রয় চায়। ওদেরও আছে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। আশ্রায়নের আবু কালাম ব্যাপারী, বশির ফকির, আলামিন ব্যাপারী, ফিরোজা বেগম, হাসিনারা বেগম ও চানভানু জানান, ঘরের চালের ভাঙ্গা টিন দিয়া বৃষ্টির পানি পড়ে। তখন বিছানা ও জামা কাপড় পানিতে ভিজে যায়। বৃষ্টির কারনে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারিনা। নাট-স্ক্রু ও সিমেন্টের খুঁটি খসে পড়েছে। একটু ঝড় হলেই ঘরগুলো নড়বড় করে। তখন ভীষন ভয় লাগে। এই ভাবে কষ্ট করে আমাদের দিন কাটাতে হয়। একের পর এক বন্যা আমাদের ঘর-বাড়ি তছনছ করে ফেলেছে। সরকার তা ঠিক করে দিচ্ছেন না। টাকার অভাবে আমরাও ঠিক করতে পারছি না।

আশ্রায়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সাথে পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের বিখ্যাত ‘আসমানী’ কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র আসমানীর সাথে মিল রয়েছে। সেই কবিতার দু’টি চরন এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। ‘আসমানীদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা, বেন্না পাতার ছানি; একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।’ আশ্রায়ন কেন্দ্রের হতভাগা লোকজনের দুঃখ, কষ্ট ও দুর্দশার বাস্তব চিত্র কেউ দেখতে চাইলে তারা যেন ফুলখালী আশ্রায়ন কেন্দ্র ঘুরে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হাজী মো. রাকিব মোল্লা জানান, আশ্রায়ন কেন্দ্রের ঘরগুলো সংস্কার না করার কারনে দিন দিন তা আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটু নজর দিলে আশ্রায়নবাসীর এ কষ্ট আর থাকবে না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাব। পরবর্তীতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

উপদেষ্টা মন্ডলী

প্রধান উপদেষ্টা : শাহ্ সাজেদা ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সৈয়দ এহছান আলী রনি ।
সহকারী সম্পাদক: খন্দকার মুন্না ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এফ.এম. আসাদুজ্জামান (আসলাম) ।
বার্তা সম্পাদক : মোঃ নাজমুল হক ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মামুনুর রশীদ নোমানী ।

যোগাযোগ

সকল প্রকার যোগাযোগ: লুকাস কম্পাউন্ড,সদর রোড,বরিশাল ।

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল : 01839970603

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিংঃ ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক

Design & Developed BY EngineerBD