,
প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

বরিশালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই অধিকাংশ ভবন শপিং মল ও মার্কেটে

 

মামুনুর রশীদ নোমানী ॥ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে বরিশালের অধিকাংশ ভবন,শপিং মল ও মার্কেট। পরিদর্শন করে দেখা গেছে এর অধিকাংশ ভবন,শপিংমল ও মার্কেট অগ্নি ঝুঁকিতে। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা কিছুটা শঙ্কিত হলেও মালিকরা একেবারেই উদাসীন নিরাপত্তার বিষয়ে। এ ব্যাপারে সরকারকে আইনগতভাবে কঠোর হওয়ার পরামর্শ নগরবাসীদের।
দাউ দাউ করে জ্বলছে জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। আগুনের এই বিভীষিকা মুহূর্তেই পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে শত শত পরিবারের স্বপ্ন। বরিশালে প্রায়ই ঘটছে অগ্নি দুর্ঘটনা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আশংকার মধ্য দিয়েই চলছে কেনাবেচা।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, এই বিপণিবিতানগুলোর অধিকাংশতেই নেই অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও রেসকিউ সিঁড়িসহ অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অগ্নি ঝুঁকিতে থাকা বরিশাল নগরীর বিপণিবিতানগুলোর তালিকা তৈরি করবে। তবে এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন মালিকরা ।
বরিশালের হাজি মুহসিন মার্কেটের এক দোকান মালিক বলেন, ‘আগুন এমনই জিনিস, যখন দুর্ঘটনা ঘটে যায় তখন আর এটাতে কিছুই করার থাকে না। দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিস আমাদের সহযোগিতা করে কিন্তু তারপরেও আমাদের শেষ রক্ষা হয়নি।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম দশ মিনিট কিন্তু আপনাকে ফাইট করতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কিন্তু প্রত্যেকটা মার্কেটে ছোট্ট একটা ফায়ার টিম থাকতে হবে।
বিপণিবিতানগুলোতে অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার পরামর্শ নগরবিদদের। বিশিষ্ঠ স্থপতি মিলন মন্ডল বলেন, ‘সরকারেরই দায়িত্ব এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে এর অধিবাসীদের সরিয়ে সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা। কেউ যদি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকতে চায় তার জন্য সরকার আইন অনুযায়ী বল প্রয়োগ করতে পারে।
বনানী ট্রাজেডি ভাবিয়ে তুলছে নগরবাসীকে।
কিছু কিছু জায়গায় অগ্নি নির্বাপণ সিলিন্ডার চোখে পড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল বা এগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ঝুঁকিপূর্ণ এইসব বিপণিবিতানগুলোতে সংস্কারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া না হলে যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এজন্য একদিকে যেমন ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে তেমনি সমস্যা সমাধানে সরকারকে হাতে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী উদ্যোগ, এমনটাই মত নগরবাসীর।
বরিশাল নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম ও ঘনবসতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। টার্মিনাল-সংলগ্ন মহাসড়কের গোলচত্বরের পাশেই রয়েছে বরিশাল অটো সার্ভিস নামে একটি বড় ও পুরনো পেট্রোল পাম্প। মাসছয়েক আগে এ পাম্পে জ্বালানি সরবরাহের সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়। দমকল বাহিনী ও স্থানীয় উদ্যোগে তাৎক্ষণিক আগুন নেভাতে পারায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্তৃপক্ষের গুরুতর এক অনিয়ম ফাঁস হয়ে যায়। তা হলো- এখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই নেই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যা অপরিহার্য। এ প্রতিষ্ঠানের মতো বরিশাল নগরীতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নতুন ও পুরাতন পোশাক বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ হাজি মোহাম্মদ মহসিন মার্কেট, হাটখোলা, চকবাজার, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং অসংখ্য বহুতল ভবন। এ ছাড়া গ্যাসচালিত ইজিবাইকগুলো অতিঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ পরিবহনেই সয়লাব নগরী।
নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মীর্জা গোলাম রাব্বানী লাবু বরিশাল অটো সার্ভিসের ওই ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, ওই দিন আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঘটত আরেক ট্র্যাজেডি। পেট্রোল পাম্পটির তিন দিকে একটি ব্যাংকসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন রয়েছে। সামনের দিকে মহাসড়কে দিনরাত বাস-টেম্পোতে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়।
গায়ে গায়ে লাগানো কাঠের তৈরি ও আধাপাকা ঘরে কয়েকশ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে হাজি মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটে। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো এ মার্কেটটির অবস্থান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সদর অফিস থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে। এ পর্যন্ত মার্কেটটিকে অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন ফায়ার অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা। একই অবস্থা চকবাজার ও হাটখোলা এলাকায়। এ দুটি এলাকা বরিশালের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ফায়ার সার্ভিস বরিশালের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, বহুতল ভবন ও পেট্রোল পাম্পসহ অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে তারা নানামুখী চেস্টা চালাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি সফল হতে পারছেন না।
প্রতিষ্ঠানটির বরিশালের সহকারী পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য বরিশালের স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবনগুলোর বিষয়ে নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে। ঢাকার চকবাজার ট্র্যাজেডি আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করব। প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শক আবু ইউসুফ পান্না বলেন, বরিশাল অটো সার্ভিস মালিক কর্তৃপক্ষকে পরপর তিনবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা অগ্নিনির্বাপণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ছয় মাস আগে সেখানে একটি মোটরসাইকেল অগ্নিদুর্ঘটনার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থদণ্ড করেন।
এ পরিদর্শক জানান, নগরীতে হাসপাতাল-ক্লিনিক, পেট্রোল পাম্পসহ অনেক প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন রয়েছে, যার মালিকপক্ষ অগ্নিনির্বাপণ আইন পুরোপুরি মানছে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারের মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ইজিবাইকে এসব সিলিন্ডার ব্যবহার করায় সেগুলো এখন নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ যানবহন। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

উপদেষ্টা মন্ডলী

প্রধান উপদেষ্টা : শাহ্ সাজেদা ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সৈয়দ এহছান আলী রনি ।
সহকারী সম্পাদক: খন্দকার মুন্না ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এফ.এম. আসাদুজ্জামান (আসলাম) ।
বার্তা সম্পাদক : মোঃ নাজমুল হক ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মামুনুর রশীদ নোমানী ।

যোগাযোগ

সকল প্রকার যোগাযোগ: লুকাস কম্পাউন্ড,সদর রোড,বরিশাল ।

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল : 01839970603

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিংঃ ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক

Design & Developed BY EngineerBD