,
প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

কে এই নলছিটির মোল্লরহাট ইউপি চেয়ারম্যান খুনি কবির :গড়ে তুলেছে হাতুড়ি বাহিনী : খুন ,যৌন হয়রানী ও জমি দখলই যেন তার নেশা

 

মামুনুর রশীদ নোমানী :
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেনের বিরুদ্ধে রানাপাশা গ্রামের রানাপাশা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডো অমল চন্দ্র নট্ট’র মালিকানাধীন জমি কেটে জবর-দখল করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ১২৮ নং বিএস খতিয়ানের, ৬৮ নং জেএল এর ৩৫৩ নং দাগে মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডো অমল চন্দ্র নট্ট’র প্রায় ২১ শতাংশ জমিতে অনুমতি না নিয়েই গত বুধবার জোরপূর্বক মাটি কেটে উঁচু ও চওড়া আইল তৈরি করছে ওই ইউপি চেয়ারম্যান। কামদেবপুর গ্রামের মৃত মৌজে আলী ফকিরের ছেলে মহসিন ফকির ও মৃত আশ্রাব আলী ফকিরের ছেলে দেলোয়ার ফকির এই জমিতে মাটি কাটছে। তারা বলেন, মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনের নির্দেশে তারা এ কাজ করছে। অমল নট্ট তার জমি পূর্বের অবস্থায় ফিরে পেতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে
তালতলা কৃষি ব্যাংক ভাংচুর ও ব্যবস্থাপককে হ্তুড়ি দিয়ে মারধর করেছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের তালতলা বাজারে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক শাখায় হামলা-ভাংচুর ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মারধরের অভিযোগে আ’লীগ নেতা মোল্লারহাটের ইউপি চেয়ারম্যন কবির হোসেনসহ তার ৭/৮জন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষি ব্যাংক তালতলা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাইনুর রহমান বাদী হয়ে নলছিটি থানায় হামলা-ভাংচুর ও মারধরের লিখিত অভিযোগ প্রদান করলে থানা পুলিশ এজাহার হিসাবে রেকর্ড করেছে।
মেল্লারহাট গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেল খানের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকা লোন উত্তলন নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে কৃষকের পক্ষ নিয়ে কবির চেয়ারম্যান কৃষি ব্যাকের ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাইনুর রহমানকে প্রকাশ্যে হামলা ককরে ব্যাংক ভাংচুর করে।
ব্যাংক সূত্র ও মামলার বিবরনে জানা যায়, মেল্লারহাট ইউনিয়নের কৃষক তোফাজ্জেল খান তালতলা কৃষি ব্যাংকের থেকে ৬০ হাজার টাকা লোনের আবেদন করেন। তবে লোনের অনুকুলে ব্যাংকে জামানত রাখা সম্পত্তির দলিলের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করে দেখে জমিটি অন্যের কাছে বিক্রির জন্য বায়না করা। তাই কৃষক তোফাজ্জেল খানকে ব্যাংক লোন দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে মোল্লারহাট ইউপি চেয়ারম্যন কবির হোসেন দলবল নিয়ে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে তোফাজ্জেল খান কে লোন দিতে ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাইনুর রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান নিজে ও তার সঙ্গীয় দলবল নিয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাইনুর রহমানকে মারধর ও পায়ের জুতা দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এসময় তাকে রক্ষা করতে ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার কবির উদ্দিন আহমেদ, অফিসার মাহমুদ হাসান ও অফিসার রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে নলছিটি তালতলা বাজারের কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাইনুর রহমান বলেন, কৃষক তোফাজ্জেল খান ৬০ হাজার টাকা লোনের আবেদন করেন কিন্তু তার বন্ধক রাখা জমিটি অন্যের কাছ থেকে বিক্রির জন্য বায়না করা। তাই তাকে লোণ না দেয়ায় মোল্লারহাটের ইউপি চেয়ারম্যন কবির হোসেন দলবল নিয়ে ব্যাংকে এসে আমার উপর হামলা করে। এ ব্যাপারে আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা সজলকে হত্যা করে কবির চেয়ারম্যান। সজল হত্যা মামলার দু নম্বর আসামী কবির চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিল কবির চেয়ারম্যান। পরে জামিনে মুক্তি লাভ করে।

নলছিটিতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
পুলিশ হেফাজতে ইউপি চেয়ারম্যান কবির :

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দিনদুপুরে সাইদুল ইসলাম তালুকদার ওরফে কানবালা সাইদুল (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন তাঁর ভাগিনা রুম্মান।
শনিবার ২৩ মার্চ ‘১৯ তারিখ বেলা ৩টার দিকে উপজেলা নাচনমহল ব্রিজের দক্ষিণ ঢালে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত সাইফুল ইসলাম তালুকদার ওরফে কানবালা নাচনমহল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের ছেলে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, নাচনমহল বাজারের ইজারা নিয়ে সাইদুলের সাথে কবিরের দ্বন্ধ চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে। এই বিরোধের কারনেই সাইদুল প্রান হারায় কবির ও তার সহযোগীদের হাতে। এ হত্যাকান্ডে কবির এবং কবিরের ভাই মুজাম্মেল ও দেলোয়ার নেতৃত্ব দেয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভাগিনা রুম্মনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভরানী নামক গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন সাইদুল ইসলাম। পথিমধ্যে নাচনমহল গ্রামের একটি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে কবির চেয়ারম্যানের হাতুড়ি বাহিনী
একদল অস্ত্রধারী। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। তখন মামাকে রক্ষায় অস্ত্রধারীদের প্রতিরোধ করতে গেলে ভাগিনা রুম্মানকেও কুপিয়ে আহত করে। এতে ঘটনাস্থলে সাইদুল ইসলামের প্রাণ গেলে রুম্মানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে স্থানীয়রা।হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নিহত সাইদুল ইসলামের লাশটি উদ্ধার করে জেলা মর্গে পাঠিয়েছে। এসময় নিহতের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনকে আটক করা হয়। কিন্তু এই হত্যাকান্ডে কে বা কারা জড়িত সেই বিষয়টি তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।
তবে নিহতের পরিবার দাবি করছে, মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনের সাথে নাচনমহল বাজারের ইজারা নিয়ে ও সজল হত্যা নিয়ে সাইদুলের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই মোজাম্মেল ও দেলোয়ার হোসেন একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে খুন করেছে।
অবশ্য নলছিটি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখায়াত হোসেন বলছেন, এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তা ছাড়া নিহত সাইদুলের সাথে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহী রুম্মানেরও জ্ঞান ফেরেনি। যে কারণে বিষয়টি সম্পর্কে আপাতত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কবির চেয়ারম্যান এক আতংকের নাম। তার অত্যাচারে সর্বস্তরের লোকজন অতিষ্ঠ। কুখ্যাত এরশাদ সিকদারকেও কবির চেয়ারম্যান হার মানিয়েছে। মোল্লারহাট জনপদের এক ভয়ংকর খুনির নাম কবির চেয়ারম্যান।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামের মকিমের পুত্র কবির চেয়ারম্যান। ছোট বেলা থেকেই খুন ও জমি দখল,নারী নির্যাতন সহ একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। এলাকার লোকজন তার ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা।
মোল্লারহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল রানাকে কবিরের হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে পঙ্গু করে। পঙ্গু অবস্থায় দিন যাপন করছে সোহেল রানা।
কামদেবপুরের সমাজসেবক শাহ আলম জোমাদ্দারকে নাচনমহল বাজারে বসে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে রাস্তায় ফেলে যায়। শাহ আলম এ ঘটনায় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাড়ি আসার পরে শাহআলমের মৃত্যু ঘটে। শাহ আলমের পুত্র মামুন জোমাদ্দারকে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। প্রানের ভয়ে সে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
কামদেবপুর এর গুচ্ছগ্রামের তুজাহারের পুত্র সজলকে কবির সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মালুহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যা মামলার দু নম্বর আসামী কবির চেয়ারম্যান।
নলছিটিরআওয়ামী নেতা হান্নান শিকদারকে কৌশলে কবির ডেকে নিয়ে মোল্লারহাটের কামদেবপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটকিয়ে মারধর করে।
কামদেবপুর গুচ্ছগ্রামের আলতাফ আকনের ছেলেকে গাছের সাথে বেধেঁ রেখে আলতাফকে হাতুড়ি দিয়ে মারদর করে ফেলে যায় কবির।
মধ্য কামদেবপুরের রশিদ মেম্বরের ছেলে জহিরকে কুপিয়ে আহত করে কবির চেয়ারম্যান।
বাড়ানীর হান্নান শরীফকে হাতুড়ি পেটা করে কবির ও তার হাতুড়ি বাহিনী।
মালুহার গ্রামের মোতালেব,তার স্ত্রী সন্তানদের মেরে তাদের জমি দখল করে এই কুখ্যাত কবির।
পুর্ব কামদেবপুর গ্রামের মোস্তফা প্যাদাকে মেরে তার জমি দখল করে কবির।
পুর্ব কামদেবপুরের ফুল সরীফ হাওলাদারের পুত্র বশিরকে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।
মালুহারের গাড়ি মজিবরের ভাই ফরিদকে তার স্ত্রী সন্তানের সামনে মেরে ঘর থেকে বের ককরে দিয়ে ঘরবাড়ি দখর করে কবির। মালুহার
বাড়ানি সংলগ্ন হিন্দুদের তাড়িয়ে মৃতিরচর দখর করে। কবির চেয়ারম্যানের কাছে কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ নিরাপদ নয়।
কবিরের আপন ভাই মোস্তফার স্ত্রীকে ও এক নারী ইউপি সদস্যাকে নিজ স্ত্রীর মত ব্যাবহার করে। অসামাজিক কার্যকলাপের সময় ভাড়ানিতে বসে লোকজনের হাতে ধরা পরে কবির চেয়ারম্যান। এলাকার লোকজন জানায় কবির যেন সেই কুখ্যাত এরশাদ শিকদারকেও হারমানিয়েছে।কবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের খতিয়ান বেড়িয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

উপদেষ্টা মন্ডলী

প্রধান উপদেষ্টা : শাহ্ সাজেদা ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সৈয়দ এহছান আলী রনি ।
সহকারী সম্পাদক: খন্দকার মুন্না ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এফ.এম. আসাদুজ্জামান (আসলাম) ।
বার্তা সম্পাদক : মোঃ নাজমুল হক ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মামুনুর রশীদ নোমানী ।

যোগাযোগ

সকল প্রকার যোগাযোগ: লুকাস কম্পাউন্ড,সদর রোড,বরিশাল ।

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল : 01839970603

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিংঃ ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক

Design & Developed BY EngineerBD