,
প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

অনুসন্ধান প্রতিবেদন ভেজাল ওষুধ ও চিকিৎসা বিড়ম্বনায় সারাদেশ ॥ প্রশাসন নিরব ভূমিকায়

অনুসন্ধান প্রতিবেদন

ভেজাল ওষুধ ও চিকিৎসা বিড়ম্বনায় সারাদেশ ॥ প্রশাসন নিরব ভূমিকায়

ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল : বর্তমানে ভেজাল ওষুধে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এখন আমাদের জীবনযাত্রার প্রায় ক্ষেত্রে সব কিছুর সঙ্গেই ভেজাল মিশে গেছে। দেশের মানুষ আজ ভেজালের ভয়ে শঙ্কিত ও হতাশগ্রস্থ। খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহতার চেয়েও এখন ভয়ঙ্কর একটি বিষয় ‘ভেজাল ওষুধ। আর এই ভেজাল ওষুধের কারনে আজ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত জনসাধারন। আর এর জন্য বর্তমানে দায়ী কিছু লোভী অসাধু চিকিৎসক। কারন এই সব চিৎসক যাচাই বাছাই ছাড়া কিছু উৎসকোচ এর বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ লিখে হয়রানী করছে রুগীদের এমন অভিযোগে অন্ত নেই।অনুসন্ধানে জানাযায় দেশে দোকান থেকে ওষুধ কেনা দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহরের বড় বড় পাইকারী দোকনগুলিতে হরহামেমায় ভেজাল ও নিন্মমানের ওষুধ বিক্রয় হচ্ছে। কারন ভেজাল ওষুধ প্রস্তুককারক কোম্পানীগুলি শহরের বড় বড় ওষুধের দোকানগুলিকে তারগেট করে এ সব ওষুধ তৈরী করে থাকে। বড় বড় ফার্মেসীগুলি আবার সেই ওষুধ গ্রাম্য চিকিৎসকদের নিকট কমমুল্যে পুশ সেল করে থাকে। সুত্র থেকে জানাযায়, বেসরকারি হিসাবে প্রতি বছর ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ওষুধ চোরাইপথে বাংলাদেশে অভাধে প্রবেশ করছে। সেই সব ওষুধ আমরা বুঝে না বুঝে সেবন করছি। বিশেষ করে বর্তমানে বিদেশী ভেজাল ওষুধের কারনে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। রোগ নিরাময় বা জীবন বাঁচানোর মোক্ষম মাধ্যম ওষুধে ভেজাল কথাটি যুক্ত হয়ে জনমনে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। মানুষ যেন তাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও হারাতে বসেছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশে ওষুধশিল্প নিয়ে এমন ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা জানা যায় না। সব দেশে ওষুধকে সর্বোচ্চ মানদদে প্রস্তুত ও মেয়াদকাল নিশ্চিত করা হয়। অথচ আমাদের দেশে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। মানুষের জীবন নিয়ে এ হীন অর্থলিপ্সু খেলায় মেতেছে একশ্রেণির অসাধু মানুষ (?)। দুঃখিত, তাদের মানুষ বলতেও আজ আমাদের দ্বিধা হয়। মানুষ কী করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে পারে, তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। এক তথ্যে বলা হয়েছে, ভারতের শতকরা ৩৩ ভাগ ওষুধ নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের। এসব ওষুধের বেশির ভাগই বাংলাদেশে বিক্রি হয়। শুধু বাংলাদেশের ওষুধের বাজার দখল করতে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছুসংখ্যক নিম্নমানের ওষুধ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। এসব ওষুধের খুব অল্পই শহরাঞ্চলে বিক্রি হয়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হাতুড়ে ডাক্তারদের মোটা অঙ্কের লোভ দেখিয়ে এসব ওষুধ ধরিয়ে দেয়া হয়। খ্যাতনামা কোম্পানির অবিকল আসল প্যাকেটের মোড়কে ভুয়া ওষুধ মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা বাজারজাত করছেন। ভুয়া ওষুধ কোম্পানিগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে লোক নিয়োগ করে রোগীদের ব্যবহূত ওষুধের খালি শিশি, স্যালাইনের ব্যাগ সংগ্রহ করে। নকল-ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পরে হাই অ্যান্টিবায়োটিকও রোগীর দেহে কাজ করে না। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনিতে আমরা ভেজাল খেতে খেতে শেষ। তার ওপর ওষুধেও ভেজাল হলে বাঁচার আর আশা কী? ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে খাওয়াতে রোগীর বারোটা বাজাচ্ছেন। প্রয়োজন না থাকলেও কমিশন পাওয়ার জন্য অহেতুক মেডিকেল টেস্ট আর ওষুধে সারানোর চেষ্টা সম্ভব থাকলেও শরীর কাটাছেঁড়া বা অপারেশনের নামে বিপুল অর্থ লুফে নেয়ায় ব্যতিব্যস্ত অনেক ডাক্তার। জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত সব ওষুধের গুণগত মান, নকল, ভেজাল ও নিম্নমান যাচাইয়ের জন্য স্থাপিত মহাখালীর ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিটি মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি, অপরিষ্কার-নোংরা পরিবেশ ও স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বর্তমানে ওষুধ পরীক্ষা নয় বরং ল্যাবরেটরিরই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। একাধিক তথ্য থেকে জানাযায় ল্যাবরেটরিরই পরীক্ষার জন্য যে ব্যান্ড এর ওষুধ আসে শুধু সেই ওষুধের মান ঠিক থাকে। কিন্তু ল্যাবরেটরিরই কোন রকম পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই অনেক নিন্মমানের কোম্পানীর ওষুধ বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়ে থাকে এমন অভিযোগের শেষ নেই। আমার মনে প্রশ্ন জাগে কিভাবে বিষ্টল,ইনডেক্স ফার্মাসিউটিক্যাল,হ্যাপি ফার্মাসিউটিক্যাল,সবুজ ফার্মাসিউটিক্যাল,জলিল ফার্মাসিউটিক্যাল,জনকল্যান ফার্মাসিউটিক্যালসহ অসংখ্যা নামে বে নামে অনেক কোম্পনি ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্যই এ বিষয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হরিদাশ বিশ্বাস জানান এ ধরনের কোম্পানির ওষুধ খেয়ে রোগ সারে না বরং রোগী আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে । সরকারের উচিত এ ধরনের কোম্পানীর উৎপাদন বন্ধ করা। অনুসন্ধানে জানাযায় দেশের বৃহত্তম ওষুধ মার্কেট মিডফোর্ট বাজার ভেজাল অষুধ দখল করেছে। তবে কয়েক বার এখানে ভ্রামমান আদালত অভিযানের কারনে এখন এখানে প্রকার্শে এ ধরনের ওষুধ বিক্রয় করে না। তবে সরেজমিনে দেখা যায় এ ধরনের ওষুধ গোপনে দেদারছে বিক্রয় করছে । আসল কথা ওষুধ বিভাগ ও চিকিৎসক সকলে এখন ব্যাবসায়ী মনোভাবের হয়ে গেছে ফলে এখন চিকিৎসার সকল ক্ষেত্র ভেজালে পরিনত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রচ্ছদ | বরিশাল | অনলাইন সংবাদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | রাজনীতি | খেলাধুলা | সাহিত্য | এক্সক্লুসিভ | ফ্রেন্ডস ফর লাইফ সংবাদ | সিটিজেন জার্নালিস্ট সংবাদ | সম্পাদকীয় |

উপদেষ্টা মন্ডলী

প্রধান উপদেষ্টা : শাহ্ সাজেদা ।
উপদেষ্টা সম্পাদক : সৈয়দ এহছান আলী রনি ।
সহকারী সম্পাদক: খন্দকার মুন্না ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এফ.এম. আসাদুজ্জামান (আসলাম) ।
বার্তা সম্পাদক : মোঃ নাজমুল হক ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মামুনুর রশীদ নোমানী ।

যোগাযোগ

সকল প্রকার যোগাযোগ: লুকাস কম্পাউন্ড,সদর রোড,বরিশাল ।

ইমেইল: nomanibsl@gmail.com

মোবাইল : 01839970603

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিংঃ ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক

Design & Developed BY EngineerBD